বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন ও তার ছেলে বাগেরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুইশ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার (৫ মে) বাগেরহাট মডেল থানায় নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে শেখ হেলাল, শেখ তন্ময় ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহচর মো. ফিরোজুল ইসলাম, এমএইচ শাহীন ও শেখ শহীদুল ইসলাম শহরের সরুই এলাকার একটি কার্যালয়ে গিয়ে আব্দুল মান্নানের কাছে ২০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
প্রাণভয়ে সেদিনই সাত কোটি ত্রিশ লাখ টাকা নগদ তুলে দেন মান্নান। এরপর ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ফের চাঁদা আদায়ের জন্য আসামিরা হুমকি দিলে আরও ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি। এভাবে দুই দফায় মোট ২০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
বাদীর দাবি, আসামিরা ক্ষমতাসীন সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতা হওয়ায় এতদিন মামলা করার সাহস পাননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাহস সঞ্চয় করে অবশেষে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— শেখ হেলালের ব্যক্তিগত সহকারী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ফিরোজুল ইসলাম (বাড়ি: মুক্ষাইট, বাগেরহাট), শেখ তন্ময়ের সহকারী এমএইচ শাহীন (বাড়ি: ভাঙ্গা, ফরিদপুর) এবং বরিশালের বাসিন্দা শেখ শহীদুল ইসলাম।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ-উল-হাসান জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ৩৮৬ ও ৩৮৭ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি শেখ শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
উল্লেখ্য, মামলার আসামিরা ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হেলাল ও তার পুত্র শেখ তন্ময় বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























