ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১ তরুণীদের এনে পর্নো ভিডিও, স্বামী-স্ত্রী, দুই ছেলে-সহ গ্রেফতার ৫ শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির হোসেন মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাপে কামড়ানোর পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনম না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে গলাচিপা উপজেলা সদরের কালিকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ ঘরে বসে চা খাওয়ার সময় একটি সাপ তার বাম পায়ের আঙুলে কামড় দেয়। সাপটি দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি স্ত্রীকে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, হাসপাতালে তার ভাইকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম তানহা। তিনি বলেন, রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার ব্লাড প্রেশার ও হার্ট রেট বেশি ছিল। কার্ডিয়াক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত ছিল। তবে জাকির হোসেনের শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার কারণে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জুয়েল বলেন, রেফার করার পর পটুয়াখালী নেওয়ার সময় রোগীর জ্ঞান ছিল। পথে কোনো বিলম্ব হয়নি। পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, সাপে কামড়ানোর পর জাকির হোসেনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, তার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না এবং কেন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু 

Update Time : ০৯:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির হোসেন মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাপে কামড়ানোর পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনম না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে গলাচিপা উপজেলা সদরের কালিকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ ঘরে বসে চা খাওয়ার সময় একটি সাপ তার বাম পায়ের আঙুলে কামড় দেয়। সাপটি দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি স্ত্রীকে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, হাসপাতালে তার ভাইকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম তানহা। তিনি বলেন, রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার ব্লাড প্রেশার ও হার্ট রেট বেশি ছিল। কার্ডিয়াক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত ছিল। তবে জাকির হোসেনের শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার কারণে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জুয়েল বলেন, রেফার করার পর পটুয়াখালী নেওয়ার সময় রোগীর জ্ঞান ছিল। পথে কোনো বিলম্ব হয়নি। পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, সাপে কামড়ানোর পর জাকির হোসেনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, তার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না এবং কেন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

প্রিন্ট করুন :