মুর্শিদুল ইসলাম খান
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রেহানা বেগম (৩০)। সংসারের অভাব, স্বামীর নির্যাতন আর থাকার জায়গার সংকটে শেষ পর্যন্ত ঘরভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল মাত্র এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।
বর্তমানে চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা। স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হলেও টিনের ছাউনি দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার। ফলে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সন্তানদের নিয়ে দিন কাটছে তার।
রেহানা জানান, তার স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত। মাদক কেনার টাকা না পেলে প্রায়ই তাকে মারধর করেন। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে পাওয়া টাকাও অনেক সময় স্বামী নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভাবের কারণে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয়। পরে মানুষের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে পাওয়া টাকা এবং নিজের চুল বিক্রি করে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করেন। এর মধ্যে চুল বিক্রি করে পান মাত্র এক হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়েই ঘরভাড়া পরিশোধ করেন তিনি।
রেহানা বেগম বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাবারও নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যা পাই, তা দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। স্বামী মাদক খেয়ে আমাকে মারধর করে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া দিতে নিজের চুলও বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই—সন্তান দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘর। ঘরের ওপর নেই কোনো টিনের ছাউনি, চারপাশেও নেই পর্যাপ্ত বেড়া। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন রেহানা। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌস জানিয়েছেন, রেহানা বেগমের জন্য এক মাসের প্রয়োজনীয় শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তার বসবাসের জন্য একটি ঘরেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Reporter Name 



















