ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

‎বাথরুমে সাপ, নাকি হানিট্রাপ— দুমকির রহস্যময় রাতের নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পটুয়াখালীর দুমকিতে গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়ির পেছনে গিয়ে ধরা পড়েছেন ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বারেক। এই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ দুই রকম কথা বলছে।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুমকি উপজেলার দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামে মানিক বয়াতির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আটক বারেক পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং টানা ছয়বারের ইউপি সদস্য। থানায় মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
‎
‎মানিক বয়াতির মেয়ে আয়েশার অভিযোগ, সরকারি চাল দেওয়ার নাম করে বারেক তাঁকে দিনের পর দিন খারাপ প্রস্তাব দিতেন। আয়েশা বলেন, বারেক ফোনে বারবার তাঁকে বিরক্ত করতেন, আর এসব কথা স্বামীকে জানালে তালাকের ভয় দেখানো হতো।
‎
‎আটকের পর বারেক নিজে বলছেন ভিন্ন কথা— সেই রাতে হঠাৎ বাথরুমে যাওয়ার দরকার হওয়ায় তিনি ওই বাড়ির পেছনের বাথরুমে গিয়েছিলেন।
‎
‎আয়েশার স্বামী লিটন হাওলাদার জানান, বাথরুমের একটা গর্তে সাপ ঢুকেছিল। সাপ মারতে না পেরে পরিবারের লোকজন টর্চলাইট নিয়ে সেখানে যায়। তখনই দেখা যায়, আগে থেকে ওখানে লুকিয়ে ছিলেন বারেক। তিনি পালাতে গিয়ে টিনের বেড়ায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে ধরে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ জড়ো হয়, শেষে পুলিশ এসে বারেককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
‎
‎কিছু অডিও রেকর্ডে আয়েশা ও বারেকের কথোপকথন পাওয়া গেছে, যেখানে টাকা, মোবাইল রিচার্জ আর টাকার বিনিময়ে দেখা করার কথা শোনা যায়। পরিবারের লোকজন থাকার কারণে দেখা করা যায়নি— এমন কথাও আছে রেকর্ডে। এসব শুনে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, পুরো ঘটনাটা কি সাজানো ফাঁদ বা ‘হানিট্রাপ’ ছিল?
‎
‎বারেকের মেয়ে শিরিন আক্তার বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষ তাঁর বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এলাকার বাসিন্দা এবং বারেকের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম উদ্দিনও বলছেন, গ্রুপিং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই হয়তো এই ষড়যন্ত্র হতে পারে।
‎
‎দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এর পেছনে আসলে কী কারণ আছে, তা তদন্ত করলেই বোঝা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

‎বাথরুমে সাপ, নাকি হানিট্রাপ— দুমকির রহস্যময় রাতের নেপথ্যে কী?

Update Time : ০৯:০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পটুয়াখালীর দুমকিতে গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়ির পেছনে গিয়ে ধরা পড়েছেন ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বারেক। এই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ দুই রকম কথা বলছে।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুমকি উপজেলার দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামে মানিক বয়াতির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আটক বারেক পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং টানা ছয়বারের ইউপি সদস্য। থানায় মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
‎
‎মানিক বয়াতির মেয়ে আয়েশার অভিযোগ, সরকারি চাল দেওয়ার নাম করে বারেক তাঁকে দিনের পর দিন খারাপ প্রস্তাব দিতেন। আয়েশা বলেন, বারেক ফোনে বারবার তাঁকে বিরক্ত করতেন, আর এসব কথা স্বামীকে জানালে তালাকের ভয় দেখানো হতো।
‎
‎আটকের পর বারেক নিজে বলছেন ভিন্ন কথা— সেই রাতে হঠাৎ বাথরুমে যাওয়ার দরকার হওয়ায় তিনি ওই বাড়ির পেছনের বাথরুমে গিয়েছিলেন।
‎
‎আয়েশার স্বামী লিটন হাওলাদার জানান, বাথরুমের একটা গর্তে সাপ ঢুকেছিল। সাপ মারতে না পেরে পরিবারের লোকজন টর্চলাইট নিয়ে সেখানে যায়। তখনই দেখা যায়, আগে থেকে ওখানে লুকিয়ে ছিলেন বারেক। তিনি পালাতে গিয়ে টিনের বেড়ায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে ধরে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ জড়ো হয়, শেষে পুলিশ এসে বারেককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
‎
‎কিছু অডিও রেকর্ডে আয়েশা ও বারেকের কথোপকথন পাওয়া গেছে, যেখানে টাকা, মোবাইল রিচার্জ আর টাকার বিনিময়ে দেখা করার কথা শোনা যায়। পরিবারের লোকজন থাকার কারণে দেখা করা যায়নি— এমন কথাও আছে রেকর্ডে। এসব শুনে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, পুরো ঘটনাটা কি সাজানো ফাঁদ বা ‘হানিট্রাপ’ ছিল?
‎
‎বারেকের মেয়ে শিরিন আক্তার বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষ তাঁর বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এলাকার বাসিন্দা এবং বারেকের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম উদ্দিনও বলছেন, গ্রুপিং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই হয়তো এই ষড়যন্ত্র হতে পারে।
‎
‎দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এর পেছনে আসলে কী কারণ আছে, তা তদন্ত করলেই বোঝা যাবে।

প্রিন্ট করুন :