দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা সেই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এগুলো একটি রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি, জনআস্থা ও ভবিষ্যতের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধিকাংশ সংঘাত মতাদর্শগত কারণে নয়; বরং স্থানীয় নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে। ঝুট ব্যবসা, বালুমহাল, পরিবহন, বাজার বা অন্যান্য স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে সংঘাতের ঘটনা রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
রাজনীতির উদ্দেশ্য জনগণের সেবা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থ যখন সংগঠনের আদর্শকে ছাপিয়ে যায়, তখন সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি দল নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই এখনই দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার, অপরাধের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং তৃণমূলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপরাধের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই সময়ে সময়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গণতান্ত্রিক হবে, সহিংস নয়—এ প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।
ঐক্য, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি। বিভাজন ও সংঘাত কখনোই কোনো দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। তাই জনআস্থা ধরে রাখতে হলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
লেখকঃ জুবাইয়া বিন্তে কবির,
গবেষক ও অর্থনীতিবিদ।
জুবাইয়া বিন্তে কবির 


























