নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছাত্রীদের আবাসিক হলে হঠাৎ তল্লাশি। আর সেই তল্লাশিতে পুরুষ কর্মীর উপস্থিতি ঘিরে ক্ষুব্ধ ছাত্রীদের একাংশ।
ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল। সেদিন প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টেরা ছাত্রীদের সিট তদারকি করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল রান্নার সরঞ্জাম—ইন্ডাকশন চুলা, হিটার—জব্দের অভিযানও। অভিযোগ, সেই সময় এক পুরুষ ইলেকট্রিশিয়ান ছাত্রীদের রুমে ঢুকে পড়েন। এমনকি একটি রুমের তালা ভেঙেও ভেতরে প্রবেশ করা হয়। আর তাতেই তীব্র ক্ষোভ ছাত্রীদের।
প্রশ্ন উঠেছে—র্যাগ ডে উপলক্ষে অধিকাংশ ছাত্রী হলের বাইরে থাকাকালেই কেন হঠাৎ এই তদারকি?
ছাত্রীদের অভিযোগ, হলে খাবারের মান এতটাই খারাপ যে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজে রান্না করেন। ফিশারিজ অনুষদের ছাত্রী দিনা বলেন, “মেয়েদের হলে পুরুষের প্রবেশ কোনোমতেই কাম্য নয়। আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরে পুরুষদের ঢোকানো অসম্মানজনক।” পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী রুমালি বললেন, “পুষ্টিকর খাবার না থাকায় বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন ব্যবহার করি।”
অভিযোগের জবাবে সহকারী প্রভোস্ট মোছা. নিলয় জামান শান্তা জানান, সেদিন অনেক ছাত্রী হলে ছিলেন বলেই তদারকি হয়। পাশাপাশি নতুন ছাত্রীদের জন্য সিট খালি আছে কিনা দেখতে গিয়েই রান্নার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তিনি স্বীকার করেন, এক রুমের তালা সত্যিই ভাঙতে হয়েছিল। কারণ ভেতরে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে অন্য কোনো রুমে হাত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
পুরুষ ইলেকট্রিশিয়ানের উপস্থিতি প্রসঙ্গে নিলয় জামান বলেন, “হিটার খুলে আনতে ইলেকট্রিশিয়ানকে সঙ্গে রাখা হয়েছিল। তবে তাঁকে দিয়ে তল্লাশি করানো হয়নি। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আর কোনো পুরুষ কর্মীকে সঙ্গে নেওয়া হবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, তিনি ক্যাম্পাসে না থাকায় বিষয়টি জানেন না। তবে ফিরেই খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন ছাত্রীহলের শিক্ষার্থীরা।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 

























