মোঃ সজিব সরদার
নিজস্ব প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়। ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (অ. দা.) প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে সংশ্লিষ্টদের সংবিধান, আইন-বিধি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামীয় একটি সংগঠন নিষিদ্ধ দলের লেজুরবৃত্তিক রাষ্ট্রবিরোধী বেআইনি কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অনলাইন ও অফলাইন সভাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। নোটিশে সংগঠনটিকে ‘গুপ্তসংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈঠকে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক অংশ নেন। তাদের মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও রয়েছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৭(৪), সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ধারা ৩(৩) এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ১(২)(ক) ও ২(ছ) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া নোটিশে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১২৪ক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব বিধান ও আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্তের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধি-বিধান এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশের সংবিধান, আইন-বিধি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা, সমৃদ্ধি, শান্তি-স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ জরুরি নোটিশে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 




















