ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

কম্বল কেলেঙ্কারিতে সাবেক এমপি কাজী হেলেন ও দুই ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রাপ্ত কম্বল আত্মসাতের মামলায় পটুয়াখালী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন এবং তার দুই ছেলে মো. তাজ হোসেন তালুকদার ও মো. মাহিন হোসেন তালুকদারের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ মে) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান থাকায় আসামিদের দেশত্যাগের চেষ্টা মামলার স্বচ্ছ তদন্তের অন্তরায় হতে পারে। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।”

দেশত্যাগের আশঙ্কায় কড়া নজরদারি:
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ২৫(১) ধারাতে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা যেকোনো সময় বিমানবন্দর, স্থলবন্দর কিংবা নদীবন্দর ব্যবহার করে দেশত্যাগ করতে পারেন, যা মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

এ প্রেক্ষিতে আদালত “মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

কম্বল আত্মসাতের অভিযোগেই মামলা:
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী সদর থানায় সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রাপ্ত কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে কাজী হেলেন ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

আদেশের কপি সাত সংস্থাকে:
আদেশের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।

পরবর্তী শুনানি ২৮ মে:
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ মে।

কম্বল কেলেঙ্কারির এই মামলায় সাবেক ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্তের গতি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নজরদারিতে থাকবে পুরো প্রক্রিয়া।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post

কম্বল কেলেঙ্কারিতে সাবেক এমপি কাজী হেলেন ও দুই ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ০৪:০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রাপ্ত কম্বল আত্মসাতের মামলায় পটুয়াখালী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন এবং তার দুই ছেলে মো. তাজ হোসেন তালুকদার ও মো. মাহিন হোসেন তালুকদারের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ মে) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান থাকায় আসামিদের দেশত্যাগের চেষ্টা মামলার স্বচ্ছ তদন্তের অন্তরায় হতে পারে। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।”

দেশত্যাগের আশঙ্কায় কড়া নজরদারি:
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ২৫(১) ধারাতে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা যেকোনো সময় বিমানবন্দর, স্থলবন্দর কিংবা নদীবন্দর ব্যবহার করে দেশত্যাগ করতে পারেন, যা মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

এ প্রেক্ষিতে আদালত “মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

কম্বল আত্মসাতের অভিযোগেই মামলা:
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী সদর থানায় সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রাপ্ত কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে কাজী হেলেন ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

আদেশের কপি সাত সংস্থাকে:
আদেশের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।

পরবর্তী শুনানি ২৮ মে:
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ মে।

কম্বল কেলেঙ্কারির এই মামলায় সাবেক ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্তের গতি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নজরদারিতে থাকবে পুরো প্রক্রিয়া।

 

প্রিন্ট করুন :