ফেনীতে ছেলের চুরির অভিযোগে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড়, তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস ও কবুতর চুরির অভিযোগ তুলে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর এক লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে, মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায়। নেতৃত্বে ছিলেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু।
ভুক্তভোগী নারী সাজেদা বেগম ও জোহরা বেগমকে এক সালিশি বৈঠকে হাজির করে ছেলের অপরাধে জড়িত অভিযোগ এনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলু লাঠি হাতে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এবং নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ি থেকে হাঁস-কবুতর চুরির অভিযোগ ঘিরে। সন্দেহভাজন দুই যুবক রাকিব ও বিজয়কে দোষারোপ করে সালিশি বৈঠক বসে। উপস্থিত না থাকায় বিজয়ের মাকেও নাক ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে অপমানজনক একটি নাটক। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং একজন পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
ঘটনার বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত।”
এদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে, ঘটনাটি আপত্তিকর ও মানহানিকর। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 





















