ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

ভোলায় চুরির নূতন কৌশলঃ রিকশাচালকের ২০ হাজার টাকা ও মোবাইল উধাও

 ভোলা প্রতিনিধি||

দিনদুপুরে কেমন করে এক রিকশাচালকের পকেট থেকে উধাও হয়ে যায় নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন? শুধু তা-ই নয়, পরে সেই চোর নিজেই ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজনের কাছে ফোন করে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ নাটক সাজিয়ে চায় টাকা! ভোলার লালমোহনে এমনই এক ‘ম্যাজিক চুরি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় জনপদ।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায়। অভিযোগের আঙুল স্থানীয় সোহাগ নামের এক যুবকের দিকে। পেশায় দালাল মো. ছালাউদ্দিনের ছেলে সে। ভুক্তভোগী রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানাচ্ছেন, গত ৬ মে তিনি অসুস্থ মামাশ্বশুরকে দেখতে ও নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল। লালমোহন উত্তরবাজারে পৌঁছাতেই একজন যুবক তাঁকে সালাম দিয়ে আলাপ জমায়।

“কী ভাবে কী হল, বুঝতেই পারিনি। মিনিটখানেকের মধ্যেই দেখি পকেট খালি,” বলেন মান্নান।
চোর মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে শুরু করে আরও বড় খেলা। ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে ফোন করে আত্মীয়স্বজনকে জানায়, “মান্নান অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, জরুরি টাকার দরকার।” একই সঙ্গে সে মান্নানকেও ফোন করে মোবাইল ফেরত দেওয়ার নাম করে ২ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। প্রথমে ৫০০ টাকা পাঠানো হয় তার বিকাশ নম্বরে (01783950155)। এরপর ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় লালমোহন বাজারে।

পরে খবর আসে—চুরি হওয়া মোবাইলটি রয়েছে জনতা বাজার এলাকার সোহাগের বাসায়। মান্নান স্থানীয়দের নিয়ে হাজির হন। দেখা যায়, সোহাগ পালিয়ে গেলেও তার মা ওই মোবাইলটি রাখেন। টাকা ফেরতের কথা উঠতেই অস্বীকার করে বসেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য, “মোবাইল ও ৫০০ টাকা এনেছিল সোহাগ, সেটা মেনেছে। কিন্তু ২০ হাজার টাকার কথা মানছে না।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের কৌশলে চুরি এ এলাকায় নতুন নয়, তবে এতটা ‘ম্যাজিক্যাল’ অভিনয় আগে কেউ দেখেনি।

পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত মান্নান এখন আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—জাদুকরী কায়দায় পকেট সাফ আর অ্যাক্সিডেন্ট নাটকের পর্দা কারা টানছে? তদন্তই দেবে তার উত্তর। তবে গ্রামে এখন শুধু একটি নাম—সোহাগ! এবং একটি দাবি—ন্যায়বিচার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

ভোলায় চুরির নূতন কৌশলঃ রিকশাচালকের ২০ হাজার টাকা ও মোবাইল উধাও

Update Time : ০৪:২২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

 ভোলা প্রতিনিধি||

দিনদুপুরে কেমন করে এক রিকশাচালকের পকেট থেকে উধাও হয়ে যায় নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন? শুধু তা-ই নয়, পরে সেই চোর নিজেই ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজনের কাছে ফোন করে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ নাটক সাজিয়ে চায় টাকা! ভোলার লালমোহনে এমনই এক ‘ম্যাজিক চুরি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় জনপদ।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায়। অভিযোগের আঙুল স্থানীয় সোহাগ নামের এক যুবকের দিকে। পেশায় দালাল মো. ছালাউদ্দিনের ছেলে সে। ভুক্তভোগী রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানাচ্ছেন, গত ৬ মে তিনি অসুস্থ মামাশ্বশুরকে দেখতে ও নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল। লালমোহন উত্তরবাজারে পৌঁছাতেই একজন যুবক তাঁকে সালাম দিয়ে আলাপ জমায়।

“কী ভাবে কী হল, বুঝতেই পারিনি। মিনিটখানেকের মধ্যেই দেখি পকেট খালি,” বলেন মান্নান।
চোর মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে শুরু করে আরও বড় খেলা। ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে ফোন করে আত্মীয়স্বজনকে জানায়, “মান্নান অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, জরুরি টাকার দরকার।” একই সঙ্গে সে মান্নানকেও ফোন করে মোবাইল ফেরত দেওয়ার নাম করে ২ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। প্রথমে ৫০০ টাকা পাঠানো হয় তার বিকাশ নম্বরে (01783950155)। এরপর ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় লালমোহন বাজারে।

পরে খবর আসে—চুরি হওয়া মোবাইলটি রয়েছে জনতা বাজার এলাকার সোহাগের বাসায়। মান্নান স্থানীয়দের নিয়ে হাজির হন। দেখা যায়, সোহাগ পালিয়ে গেলেও তার মা ওই মোবাইলটি রাখেন। টাকা ফেরতের কথা উঠতেই অস্বীকার করে বসেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য, “মোবাইল ও ৫০০ টাকা এনেছিল সোহাগ, সেটা মেনেছে। কিন্তু ২০ হাজার টাকার কথা মানছে না।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের কৌশলে চুরি এ এলাকায় নতুন নয়, তবে এতটা ‘ম্যাজিক্যাল’ অভিনয় আগে কেউ দেখেনি।

পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত মান্নান এখন আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—জাদুকরী কায়দায় পকেট সাফ আর অ্যাক্সিডেন্ট নাটকের পর্দা কারা টানছে? তদন্তই দেবে তার উত্তর। তবে গ্রামে এখন শুধু একটি নাম—সোহাগ! এবং একটি দাবি—ন্যায়বিচার।

প্রিন্ট করুন :