ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

তোমার ভয় নেই কাউকে না পেলেও আমাকে পাবে,মায়ের অঙ্গীকারে ছেলের GPA-5

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৪ Time View

ইশরাত লিটন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সন্তানের প্রতি মায়ের এই অঙ্গীকারই যেন আজ বাস্তবতার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ। দীর্ঘ পথচলায় মায়ের নিরলস ত্যাগ, ভালোবাসা ও সাহসের সঙ্গে ছেলের অধ্যবসায় ও পরিশ্রম মিলেই এসেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে SSC-2026 পরীক্ষায় GPA-5 অর্জন করেছে সিদ্ধার্থ দাস (রোল নং-১৩৮২১৫)।

সিদ্ধার্থের সাফল্যের গল্পটি শুধু একটি ভালো ফলাফলের গল্প নয়; এর পেছনে রয়েছে একজন মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ, অপেক্ষা, সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প।

সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রায় একাই তার বেড়ে ওঠার দায়িত্ব সামলেছেন মা। প্লে-তে ভর্তি থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া, নিয়মিত আনা-নেওয়া, পরীক্ষার ফরম পূরণ—সবকিছুতেই ছিলেন তিনি। সিদ্ধার্থের প্রথম বোর্ড পরীক্ষার সময়ও প্রতিটি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ছেলেকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে আবার ছোট সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া—এভাবেই দিনের পর দিন নিজের বিশ্রাম, স্বপ্ন ও ক্যারিয়ারকে পেছনে রেখে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েছেন তিনি।

সন্তানের ভালো ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে কখনো কঠোর হয়েছেন, কখনো নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়েছেন। তবে নিজের এই ত্যাগকে কখনো গর্ব হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং মহান আল্লাহর কৃপা ও শক্তিকেই এর পেছনের মূল কারণ মনে করেছেন।

অন্যদিকে, মায়ের এই ত্যাগকে সার্থক করতে সিদ্ধার্থও চালিয়ে গেছে নিরন্তর পরিশ্রম। পড়াশোনায় মনোযোগ, নিয়মিত প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে অর্জন করেছে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল—GPA-5।

সন্তানের সাফল্যের দিনে মায়ের চোখে এসেছে আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘদিনের কষ্ট, অপেক্ষা ও ত্যাগ যেন এক মুহূর্তে সার্থক হয়ে উঠেছে। পাশে কাউকে না পেলেও সন্তানের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতিই আজ সিদ্ধার্থের সাফল্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

এদিকে, SSC-2026 পরীক্ষায় এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুষ্টিয়া জেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক GPA-5 অর্জন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৪৫ জন। এর মধ্যে ৬০ জন গোল্ডেন A+, মোট ১১৪ জন GPA-5 (A+) এবং ৯৪ জন A গ্রেড পেয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৫ জন শিক্ষার্থী।

সিদ্ধার্থের এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের ত্যাগ এবং ছেলের পরিশ্রমের এই গল্পটি প্রমাণ করে—সাফল্যের পেছনে কখনো শুধু ফলাফল থাকে না; থাকে অগণিত ত্যাগ, ভালোবাসা, অপেক্ষা এবং স্বপ্নপূরণের নিরলস চেষ্টা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

তোমার ভয় নেই কাউকে না পেলেও আমাকে পাবে,মায়ের অঙ্গীকারে ছেলের GPA-5

Update Time : ০৭:০১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ইশরাত লিটন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সন্তানের প্রতি মায়ের এই অঙ্গীকারই যেন আজ বাস্তবতার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ। দীর্ঘ পথচলায় মায়ের নিরলস ত্যাগ, ভালোবাসা ও সাহসের সঙ্গে ছেলের অধ্যবসায় ও পরিশ্রম মিলেই এসেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে SSC-2026 পরীক্ষায় GPA-5 অর্জন করেছে সিদ্ধার্থ দাস (রোল নং-১৩৮২১৫)।

সিদ্ধার্থের সাফল্যের গল্পটি শুধু একটি ভালো ফলাফলের গল্প নয়; এর পেছনে রয়েছে একজন মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ, অপেক্ষা, সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প।

সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রায় একাই তার বেড়ে ওঠার দায়িত্ব সামলেছেন মা। প্লে-তে ভর্তি থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া, নিয়মিত আনা-নেওয়া, পরীক্ষার ফরম পূরণ—সবকিছুতেই ছিলেন তিনি। সিদ্ধার্থের প্রথম বোর্ড পরীক্ষার সময়ও প্রতিটি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ছেলেকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে আবার ছোট সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া—এভাবেই দিনের পর দিন নিজের বিশ্রাম, স্বপ্ন ও ক্যারিয়ারকে পেছনে রেখে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েছেন তিনি।

সন্তানের ভালো ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে কখনো কঠোর হয়েছেন, কখনো নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়েছেন। তবে নিজের এই ত্যাগকে কখনো গর্ব হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং মহান আল্লাহর কৃপা ও শক্তিকেই এর পেছনের মূল কারণ মনে করেছেন।

অন্যদিকে, মায়ের এই ত্যাগকে সার্থক করতে সিদ্ধার্থও চালিয়ে গেছে নিরন্তর পরিশ্রম। পড়াশোনায় মনোযোগ, নিয়মিত প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে অর্জন করেছে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল—GPA-5।

সন্তানের সাফল্যের দিনে মায়ের চোখে এসেছে আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘদিনের কষ্ট, অপেক্ষা ও ত্যাগ যেন এক মুহূর্তে সার্থক হয়ে উঠেছে। পাশে কাউকে না পেলেও সন্তানের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতিই আজ সিদ্ধার্থের সাফল্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

এদিকে, SSC-2026 পরীক্ষায় এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুষ্টিয়া জেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক GPA-5 অর্জন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৪৫ জন। এর মধ্যে ৬০ জন গোল্ডেন A+, মোট ১১৪ জন GPA-5 (A+) এবং ৯৪ জন A গ্রেড পেয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৫ জন শিক্ষার্থী।

সিদ্ধার্থের এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের ত্যাগ এবং ছেলের পরিশ্রমের এই গল্পটি প্রমাণ করে—সাফল্যের পেছনে কখনো শুধু ফলাফল থাকে না; থাকে অগণিত ত্যাগ, ভালোবাসা, অপেক্ষা এবং স্বপ্নপূরণের নিরলস চেষ্টা।

প্রিন্ট করুন :