ভোলা প্রতিনিধি||
দিনদুপুরে কেমন করে এক রিকশাচালকের পকেট থেকে উধাও হয়ে যায় নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন? শুধু তা-ই নয়, পরে সেই চোর নিজেই ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজনের কাছে ফোন করে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ নাটক সাজিয়ে চায় টাকা! ভোলার লালমোহনে এমনই এক ‘ম্যাজিক চুরি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় জনপদ।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায়। অভিযোগের আঙুল স্থানীয় সোহাগ নামের এক যুবকের দিকে। পেশায় দালাল মো. ছালাউদ্দিনের ছেলে সে। ভুক্তভোগী রিকশাচালক আব্দুল মান্নান জানাচ্ছেন, গত ৬ মে তিনি অসুস্থ মামাশ্বশুরকে দেখতে ও নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল। লালমোহন উত্তরবাজারে পৌঁছাতেই একজন যুবক তাঁকে সালাম দিয়ে আলাপ জমায়।
“কী ভাবে কী হল, বুঝতেই পারিনি। মিনিটখানেকের মধ্যেই দেখি পকেট খালি,” বলেন মান্নান।
চোর মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে শুরু করে আরও বড় খেলা। ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে ফোন করে আত্মীয়স্বজনকে জানায়, “মান্নান অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, জরুরি টাকার দরকার।” একই সঙ্গে সে মান্নানকেও ফোন করে মোবাইল ফেরত দেওয়ার নাম করে ২ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। প্রথমে ৫০০ টাকা পাঠানো হয় তার বিকাশ নম্বরে (01783950155)। এরপর ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় লালমোহন বাজারে।
পরে খবর আসে—চুরি হওয়া মোবাইলটি রয়েছে জনতা বাজার এলাকার সোহাগের বাসায়। মান্নান স্থানীয়দের নিয়ে হাজির হন। দেখা যায়, সোহাগ পালিয়ে গেলেও তার মা ওই মোবাইলটি রাখেন। টাকা ফেরতের কথা উঠতেই অস্বীকার করে বসেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য, “মোবাইল ও ৫০০ টাকা এনেছিল সোহাগ, সেটা মেনেছে। কিন্তু ২০ হাজার টাকার কথা মানছে না।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের কৌশলে চুরি এ এলাকায় নতুন নয়, তবে এতটা ‘ম্যাজিক্যাল’ অভিনয় আগে কেউ দেখেনি।
পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত মান্নান এখন আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—জাদুকরী কায়দায় পকেট সাফ আর অ্যাক্সিডেন্ট নাটকের পর্দা কারা টানছে? তদন্তই দেবে তার উত্তর। তবে গ্রামে এখন শুধু একটি নাম—সোহাগ! এবং একটি দাবি—ন্যায়বিচার।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















