আমরা বাস্তবকে অস্বীকার করতে পারি না—এই সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী মোবাইল সহ বিভিন্ন অপকর্মে আসক্ত, ভোরের আলো দেখে না রাতের আঁধারে; আর অভিভাবকদের অনেকে হয়তো সময়ের অভাবে, কিংবা অযত্নেই সন্তানের পড়াশোনার প্রতি তেমন নজর রাখতে পারেন না বা রাখেন না। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সন্তান যখন ফেল করে তখন সেই ব্যর্থতার তীর ছোড়া হয় শিক্ষকদের দিকে—যেন তাঁরাই সমস্ত অন্ধকারের একমাত্র কারণ।
অথচ, শিক্ষকদের আসল বাস্তবতা কি আমরা দেখি? একজন শিক্ষককে শ্রেণিতে সামলাতে হয় পঞ্চাশ-ষাট, কোথাও আশি শিক্ষার্থীর ভিড়; সীমিত সময়ের বৃত্তে, সীমাবদ্ধ উপকরণের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি গড়তে চান প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু যেদিন তিনি শাসনের দণ্ড তুলতে যান, সমাজ তখন যেন উন্মত্ত সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর ওপর—শিক্ষকের হাত-পা বাঁধা, তাঁর কণ্ঠ যেন স্তব্ধ। আর তবুও, এই প্রতিকূলতার পাহাড় চিরে অনেক শিক্ষক নিজের সাধ্যের মধ্যে এগিয়ে দেন ছাত্রের পথটুকু—সেই ভালোবাসা অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যায়, নিঃশব্দ এক মহাকাব্যের মতো।
প্রকৃত প্রশ্ন হলো—একটি ভালো রেজাল্ট তো তিনজনের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল: সন্তান, অভিভাবক আর শিক্ষক। এখানে কেউ একা দায়ী নয়, আবার কেউ একা নির্দোষও নয়।
অবশ্য কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থের গরিমায় কিংবা সুবিধাবাদের ছলে শিক্ষকের আসনে বসে থাকেন কতিপয় অসাধু শিক্ষক, তাঁদের হাতে বা মননে থাকে না জ্ঞানের শিখা, থাকে শুধু টাকা ইনকামের ধান্দা আর ফাঁকি দেওয়ার কৌশল—তাদের কথাটি স্বতন্ত্র, বাস্তবতার কুৎসিত এক রূপ।
কিন্তু যেই সন্তানটির ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাঁকে এই সময়ে দোষের বাণে জর্জরিত না করে বরং বুকে টেনে বলুন—”ভয় নেই,চেষ্টা করো, আগামী বছর তুমি ভালো করবে।”
কারণ, ব্যর্থতা শেষ নয়- ভালো প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।
লেখকঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,
শিক্ষক ও গবেষক
মোঃ রিয়াজুল ইসলাম 




















