ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার? পবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যকে মৃওিকা বিজ্ঞান বিভাগের সংবর্ধনা পবিপ্রবির উন্নয়নকাজে সরেজমিনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তোমার ভয় নেই কাউকে না পেলেও আমাকে পাবে,মায়ের অঙ্গীকারে ছেলের GPA-5 ‎দুমকিতে ১,৬১০ পিস ইয়াবা ও ৩৫ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার-১ ‎ ‎বাংলা কিউআর’ নিয়ে দুমকিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচি সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে নওগাঁর ১৩ প্রবাসী ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা সেই ভাইরাল মিজান গ্রেপ্তার অর্গানোগ্রাম ও জনবল পুনর্বিন্যাসে ইউজিসির সমর্থন চায় পবিপ্রবি ‘কমিটিতে শিক্ষক নিয়োগ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে’—উদ্বেগ সংশ্লিষ্টদের

শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার?

আমরা বাস্তবকে অস্বীকার করতে পারি না—এই সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী মোবাইল সহ বিভিন্ন অপকর্মে আসক্ত, ভোরের আলো দেখে না রাতের আঁধারে; আর অভিভাবকদের অনেকে হয়তো সময়ের অভাবে, কিংবা অযত্নেই সন্তানের পড়াশোনার প্রতি তেমন নজর রাখতে পারেন না বা রাখেন না। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সন্তান যখন ফেল করে তখন সেই ব্যর্থতার তীর ছোড়া হয় শিক্ষকদের দিকে—যেন তাঁরাই সমস্ত অন্ধকারের একমাত্র কারণ।
‎অথচ, শিক্ষকদের আসল বাস্তবতা কি আমরা দেখি? একজন শিক্ষককে শ্রেণিতে সামলাতে হয় পঞ্চাশ-ষাট, কোথাও আশি শিক্ষার্থীর ভিড়; সীমিত সময়ের বৃত্তে, সীমাবদ্ধ উপকরণের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি গড়তে চান প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু যেদিন তিনি শাসনের দণ্ড তুলতে যান, সমাজ তখন যেন উন্মত্ত সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর ওপর—শিক্ষকের হাত-পা বাঁধা, তাঁর কণ্ঠ যেন স্তব্ধ। আর তবুও, এই প্রতিকূলতার পাহাড় চিরে অনেক শিক্ষক নিজের সাধ্যের মধ্যে এগিয়ে দেন ছাত্রের পথটুকু—সেই ভালোবাসা অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যায়, নিঃশব্দ এক মহাকাব্যের মতো।

‎প্রকৃত প্রশ্ন হলো—একটি ভালো রেজাল্ট তো তিনজনের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল: সন্তান, অভিভাবক আর শিক্ষক। এখানে কেউ একা দায়ী নয়, আবার কেউ একা নির্দোষও নয়।
‎অবশ্য কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থের গরিমায় কিংবা সুবিধাবাদের ছলে শিক্ষকের আসনে বসে থাকেন কতিপয় অসাধু শিক্ষক, তাঁদের হাতে বা মননে থাকে না জ্ঞানের শিখা, থাকে শুধু টাকা ইনকামের ধান্দা আর ফাঁকি দেওয়ার কৌশল—তাদের কথাটি স্বতন্ত্র, বাস্তবতার কুৎসিত এক রূপ।

‎কিন্তু যেই সন্তানটির ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাঁকে এই সময়ে দোষের বাণে জর্জরিত না করে বরং বুকে টেনে বলুন—”ভয় নেই,চেষ্টা করো, আগামী বছর তুমি ভালো করবে।”
‎কারণ, ব্যর্থতা শেষ নয়- ভালো প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।

লেখকঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,

শিক্ষক ও গবেষক

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার?

শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার?

Update Time : ১০:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

আমরা বাস্তবকে অস্বীকার করতে পারি না—এই সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী মোবাইল সহ বিভিন্ন অপকর্মে আসক্ত, ভোরের আলো দেখে না রাতের আঁধারে; আর অভিভাবকদের অনেকে হয়তো সময়ের অভাবে, কিংবা অযত্নেই সন্তানের পড়াশোনার প্রতি তেমন নজর রাখতে পারেন না বা রাখেন না। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সন্তান যখন ফেল করে তখন সেই ব্যর্থতার তীর ছোড়া হয় শিক্ষকদের দিকে—যেন তাঁরাই সমস্ত অন্ধকারের একমাত্র কারণ।
‎অথচ, শিক্ষকদের আসল বাস্তবতা কি আমরা দেখি? একজন শিক্ষককে শ্রেণিতে সামলাতে হয় পঞ্চাশ-ষাট, কোথাও আশি শিক্ষার্থীর ভিড়; সীমিত সময়ের বৃত্তে, সীমাবদ্ধ উপকরণের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি গড়তে চান প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু যেদিন তিনি শাসনের দণ্ড তুলতে যান, সমাজ তখন যেন উন্মত্ত সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর ওপর—শিক্ষকের হাত-পা বাঁধা, তাঁর কণ্ঠ যেন স্তব্ধ। আর তবুও, এই প্রতিকূলতার পাহাড় চিরে অনেক শিক্ষক নিজের সাধ্যের মধ্যে এগিয়ে দেন ছাত্রের পথটুকু—সেই ভালোবাসা অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যায়, নিঃশব্দ এক মহাকাব্যের মতো।

‎প্রকৃত প্রশ্ন হলো—একটি ভালো রেজাল্ট তো তিনজনের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল: সন্তান, অভিভাবক আর শিক্ষক। এখানে কেউ একা দায়ী নয়, আবার কেউ একা নির্দোষও নয়।
‎অবশ্য কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থের গরিমায় কিংবা সুবিধাবাদের ছলে শিক্ষকের আসনে বসে থাকেন কতিপয় অসাধু শিক্ষক, তাঁদের হাতে বা মননে থাকে না জ্ঞানের শিখা, থাকে শুধু টাকা ইনকামের ধান্দা আর ফাঁকি দেওয়ার কৌশল—তাদের কথাটি স্বতন্ত্র, বাস্তবতার কুৎসিত এক রূপ।

‎কিন্তু যেই সন্তানটির ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাঁকে এই সময়ে দোষের বাণে জর্জরিত না করে বরং বুকে টেনে বলুন—”ভয় নেই,চেষ্টা করো, আগামী বছর তুমি ভালো করবে।”
‎কারণ, ব্যর্থতা শেষ নয়- ভালো প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।

লেখকঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,

শিক্ষক ও গবেষক

প্রিন্ট করুন :