ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার? পবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যকে মৃওিকা বিজ্ঞান বিভাগের সংবর্ধনা পবিপ্রবির উন্নয়নকাজে সরেজমিনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তোমার ভয় নেই কাউকে না পেলেও আমাকে পাবে,মায়ের অঙ্গীকারে ছেলের GPA-5 ‎দুমকিতে ১,৬১০ পিস ইয়াবা ও ৩৫ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার-১ ‎ ‎বাংলা কিউআর’ নিয়ে দুমকিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচি সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে নওগাঁর ১৩ প্রবাসী ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা সেই ভাইরাল মিজান গ্রেপ্তার অর্গানোগ্রাম ও জনবল পুনর্বিন্যাসে ইউজিসির সমর্থন চায় পবিপ্রবি ‘কমিটিতে শিক্ষক নিয়োগ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে’—উদ্বেগ সংশ্লিষ্টদের

ছেলের চুরির অপবাদে মাকে নাকে খতঃ ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে প্রশাসন

ফেনীতে ছেলের চুরির অভিযোগে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড়, তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।

ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস ও কবুতর চুরির অভিযোগ তুলে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর এক লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে, মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায়। নেতৃত্বে ছিলেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু।

ভুক্তভোগী নারী সাজেদা বেগম ও জোহরা বেগমকে এক সালিশি বৈঠকে হাজির করে ছেলের অপরাধে জড়িত অভিযোগ এনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলু লাঠি হাতে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এবং নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করেন।

ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ি থেকে হাঁস-কবুতর চুরির অভিযোগ ঘিরে। সন্দেহভাজন দুই যুবক রাকিব ও বিজয়কে দোষারোপ করে সালিশি বৈঠক বসে। উপস্থিত না থাকায় বিজয়ের মাকেও নাক ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে অপমানজনক একটি নাটক। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং একজন পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

ঘটনার বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত।”

এদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে, ঘটনাটি আপত্তিকর ও মানহানিকর। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার?

ছেলের চুরির অপবাদে মাকে নাকে খতঃ ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে প্রশাসন

Update Time : ০৯:১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

ফেনীতে ছেলের চুরির অভিযোগে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড়, তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।

ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস ও কবুতর চুরির অভিযোগ তুলে মাকে নাকে খত দেওয়ানোর এক লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে, মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায়। নেতৃত্বে ছিলেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু।

ভুক্তভোগী নারী সাজেদা বেগম ও জোহরা বেগমকে এক সালিশি বৈঠকে হাজির করে ছেলের অপরাধে জড়িত অভিযোগ এনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলু লাঠি হাতে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এবং নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করেন।

ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ি থেকে হাঁস-কবুতর চুরির অভিযোগ ঘিরে। সন্দেহভাজন দুই যুবক রাকিব ও বিজয়কে দোষারোপ করে সালিশি বৈঠক বসে। উপস্থিত না থাকায় বিজয়ের মাকেও নাক ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে অপমানজনক একটি নাটক। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং একজন পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

ঘটনার বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত।”

এদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে, ঘটনাটি আপত্তিকর ও মানহানিকর। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন :