ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

পবিপ্রবির নতুন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ২০ Time View

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক (গ্রেড-১) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসা এই শিক্ষাবিদের নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গবেষকরা।

ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ২০০৩ সালে পবিপ্রবির কীটতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করে বর্তমানে অধ্যাপক (গ্রেড-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কীটতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
গবেষণা ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত একজন বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র মলিকুলার ও ট্র্যাডিশনাল ইনসেক্ট ট্যাক্সোনমি, ইনসেক্ট বায়োডাইভার্সিটি, ইনসেক্ট ইকোসিস্টেম সার্ভিস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা। এ পর্যন্ত তাঁর ৫৩টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় তিনি বিশ্বে ৩১টি নতুন ইনসেক্ট প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এবং অর্ধশতাধিক নতুন রেকর্ডভুক্ত ইনসেক্ট স্পেসিস সংযোজন করেছেন, যা তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।

এছাড়াও জিনব্যাংকে ২৭টি জিন সিকোয়েন্স জমা দিয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি ১৬টি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (২০০৮), এক্সেলেন্ট একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১০), নতুন প্রজাতি আবিষ্কার ও এসসিআই জার্নালে প্রকাশনার জন্য অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড (২০১২) এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পবিপ্রবির রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (আরটিসি) কর্তৃক ‘সেরা গবেষণা পুরস্কার’ অর্জন করেন।

প্রশাসনিক দক্ষতার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে সফল। ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক, অর্থ কমিটির সদস্য, একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান কমিটির সদস্য, ভর্তি কমিটির সদস্য, বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কীটতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি গত ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করে আসছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে একাধিক পিএইচডি গবেষক এবং প্রায় অর্ধশত এমএস শিক্ষার্থী সফলভাবে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি International Journal of Innovative Research-এর এডিটর-ইন-চিফ, Innovative Research Syndicate-এর পরিচালক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পিয়ার রিভিউয়ার এবং বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ট্রেজারার হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

পবিপ্রবির নতুন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

Update Time : ০৭:১৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক (গ্রেড-১) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসা এই শিক্ষাবিদের নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গবেষকরা।

ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ২০০৩ সালে পবিপ্রবির কীটতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করে বর্তমানে অধ্যাপক (গ্রেড-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কীটতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
গবেষণা ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত একজন বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র মলিকুলার ও ট্র্যাডিশনাল ইনসেক্ট ট্যাক্সোনমি, ইনসেক্ট বায়োডাইভার্সিটি, ইনসেক্ট ইকোসিস্টেম সার্ভিস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা। এ পর্যন্ত তাঁর ৫৩টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় তিনি বিশ্বে ৩১টি নতুন ইনসেক্ট প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এবং অর্ধশতাধিক নতুন রেকর্ডভুক্ত ইনসেক্ট স্পেসিস সংযোজন করেছেন, যা তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।

এছাড়াও জিনব্যাংকে ২৭টি জিন সিকোয়েন্স জমা দিয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি ১৬টি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (২০০৮), এক্সেলেন্ট একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১০), নতুন প্রজাতি আবিষ্কার ও এসসিআই জার্নালে প্রকাশনার জন্য অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড (২০১২) এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পবিপ্রবির রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (আরটিসি) কর্তৃক ‘সেরা গবেষণা পুরস্কার’ অর্জন করেন।

প্রশাসনিক দক্ষতার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে সফল। ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক, অর্থ কমিটির সদস্য, একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান কমিটির সদস্য, ভর্তি কমিটির সদস্য, বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কীটতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি গত ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করে আসছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে একাধিক পিএইচডি গবেষক এবং প্রায় অর্ধশত এমএস শিক্ষার্থী সফলভাবে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি International Journal of Innovative Research-এর এডিটর-ইন-চিফ, Innovative Research Syndicate-এর পরিচালক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পিয়ার রিভিউয়ার এবং বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ট্রেজারার হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

প্রিন্ট করুন :