ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের ২৭ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ Time View

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ
‎সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যুর আত্মসমর্প উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

‎বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সহযোগীসহ মোট ৭ জন সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

‎এছাড়াও সম্প্রতি সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ-সহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

‎এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার( ১৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

‎এ সময় তারা তাদের কাছে থাকা—৩টি বিদেশি বন্দুক ১টি এইট শুটার ১টি ফোর শুটার ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক১৫টি দেশীয় পাইপগান ২টি চায়না পাইপগান ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ৫৫ রাউন্ড খালি কার্তুজবাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেয়।

‎আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের মধ্যে খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দাসহ পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার একজন সদস্য রয়েছেন।

‎তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
‎বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

‎আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।

‎অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

‎সরকারের নির্দেশনা, জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের ২৭ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

Update Time : ০৪:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ
‎সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যুর আত্মসমর্প উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

‎বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সহযোগীসহ মোট ৭ জন সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

‎এছাড়াও সম্প্রতি সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ-সহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

‎এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার( ১৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

‎এ সময় তারা তাদের কাছে থাকা—৩টি বিদেশি বন্দুক ১টি এইট শুটার ১টি ফোর শুটার ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক১৫টি দেশীয় পাইপগান ২টি চায়না পাইপগান ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ৫৫ রাউন্ড খালি কার্তুজবাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেয়।

‎আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের মধ্যে খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দাসহ পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার একজন সদস্য রয়েছেন।

‎তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
‎বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

‎আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।

‎অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

‎সরকারের নির্দেশনা, জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রিন্ট করুন :