দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) — শনিবার সকালটা যেন অন্য রকম হয়ে উঠল। সকাল ১০টা বাজতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শুরু হল এক বিরল দৃশ্য। হল করিডোর থেকে শুরু করে ডাইনিং, বাথরুম, এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের কক্ষেও ছড়িয়ে পড়ল ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি। নেতৃত্বে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। হাতে ঝাড়ু, চোখে দৃঢ়তা — এই চিত্রে মুগ্ধ হলেন সবাই।
বিজয় ২৪ হল, এম কেরামত আলী হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল-১ ও ২, তাপসী রাবেয়া বসরী ছাত্রী হল, কবি সুফিয়া কামাল হল — সর্বত্রই পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী — সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হল অভিযান।
উপাচার্যের মুখে স্পষ্ট কথা — “আমি শুধু প্রশাসক নই, একজন অভিভাবক। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বিদ্যার আলো ছড়ানোর স্থান নয়, আদর্শ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার জায়গা। আমি চাই পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার উদাহরণ হয়ে উঠুক।”
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম রাতুলের কণ্ঠে আবেগ — “স্যারকে আমরা সবসময় শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আজকের দৃশ্য হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। নেতাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেই হয় — স্যার সেটাই দেখালেন।”
তাপসী রাবেয়া বসরী হলের ছাত্রী তাসলিমার কথায় — “স্যার শুধু বলেই থেমে থাকেন না, বাস্তবেও তা প্রমাণ করেন। আজকের দৃশ্য আমাদের সত্যিই নাড়া দিয়েছে।”
এই অভিযানে উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীরা।
ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর ড. মো. তরিকুল ইসলাম সজিবের কথায় — “আমরা শুধু বই দিয়ে মানুষ গড়ি না, আদর্শ দিয়েও গড়ি। আজকের কর্মসূচি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 

























