ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

পবিপ্রবি’র ব্যতিক্রমী বীচ ক্লিনিং অভিযান

সমুদ্রের প্রতি প্রেমে দায়বদ্ধতার ছবি—কুয়াকাটায়

নিজস্ব প্রতিবেদক||

সমুদ্রের ঢেউ তখনও নিঃশব্দে উপকূলে ধাক্কা মারছে। আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে লবণাক্ত ঘ্রাণ। তারই মাঝে একদল তরুণ-তরুণী নেমেছে বালুর প্রান্তর জুড়ে—কারও হাতে প্লাস্টিকের বোতল, কারও হাতে জালের ছেঁড়া অংশ, আবার কেউ কুড়াচ্ছে পরিত্যক্ত পলিথিন। শুধু দেখে বোঝার উপায় নেই—এরা ‘ছাত্র’, এরা গবেষক। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওশানোগ্রাফি’ (IMFO)-এর ডাকে কুয়াকাটা সৈকতে ১৭ মে বিকেলে এমন এক কর্মসূচির সূচনা হয়, যার ভাষা শব্দে নয়, দায়বদ্ধতায়।

এই বীচ ক্লিনিং কর্মসূচি যেন হয়ে উঠেছিল সমুদ্রের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতীক। কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সংলাপে যাওয়াই যেখানে ছিল মুখ্য।

উদ্বোধনে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। কণ্ঠে ছিল প্রেরণার সুর:
“সমুদ্রের ডাক কেবল নয়, এটি আমাদের দায়। এই কর্মসূচি দেখিয়ে দিল—পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক নির্ভার স্বীকৃতি:
“এই কর্মসূচি দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য উদাহরণ।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বললেন,
“সমুদ্র মানেই আমাদের পরিচয়। আর পরিচয় রক্ষা মানেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।”

এমন বক্তব্যের ফাঁকে দেখা গেল—গামছা বাঁধা এক তরুণ বালুর নিচে পলিথিন খুঁজে খুঁজে তুলছেন, পাশে দাঁড়িয়ে একজন কচিকাঁচার ব্যবহৃত ভাঙা খেলনা হাতে নিয়ে বললেন, “এইটুকুও সমুদ্রে যাবে না।”

কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষদের শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী। উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ, ডিন ড. সাজেদুল হক, বিজ্ঞানী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ইনোভেশন সেন্টারের সভাপতি ড. আবু ইউসুফ প্রমুখ।

সন্ধ্যায় আয়োজিত আলোচনায় উঠে আসে সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা। বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক আজ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। প্রয়োজন একসঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা, জনগণের সচেতনতা, আর তরুণ প্রজন্মের সক্রিয়তা।

পবিপ্রবি আগেও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু IMFO’র এই আয়োজন যেন শুধুই একটি কর্মসূচি নয়—একটি প্রেমের ঘোষণা। যেখানে সমুদ্র শুধু গবেষণার বিষয় নয়, একটানা অনুভবের জগৎ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

পবিপ্রবি’র ব্যতিক্রমী বীচ ক্লিনিং অভিযান

Update Time : ০৪:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

সমুদ্রের প্রতি প্রেমে দায়বদ্ধতার ছবি—কুয়াকাটায়

নিজস্ব প্রতিবেদক||

সমুদ্রের ঢেউ তখনও নিঃশব্দে উপকূলে ধাক্কা মারছে। আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে লবণাক্ত ঘ্রাণ। তারই মাঝে একদল তরুণ-তরুণী নেমেছে বালুর প্রান্তর জুড়ে—কারও হাতে প্লাস্টিকের বোতল, কারও হাতে জালের ছেঁড়া অংশ, আবার কেউ কুড়াচ্ছে পরিত্যক্ত পলিথিন। শুধু দেখে বোঝার উপায় নেই—এরা ‘ছাত্র’, এরা গবেষক। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওশানোগ্রাফি’ (IMFO)-এর ডাকে কুয়াকাটা সৈকতে ১৭ মে বিকেলে এমন এক কর্মসূচির সূচনা হয়, যার ভাষা শব্দে নয়, দায়বদ্ধতায়।

এই বীচ ক্লিনিং কর্মসূচি যেন হয়ে উঠেছিল সমুদ্রের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতীক। কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সংলাপে যাওয়াই যেখানে ছিল মুখ্য।

উদ্বোধনে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। কণ্ঠে ছিল প্রেরণার সুর:
“সমুদ্রের ডাক কেবল নয়, এটি আমাদের দায়। এই কর্মসূচি দেখিয়ে দিল—পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক নির্ভার স্বীকৃতি:
“এই কর্মসূচি দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য উদাহরণ।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বললেন,
“সমুদ্র মানেই আমাদের পরিচয়। আর পরিচয় রক্ষা মানেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।”

এমন বক্তব্যের ফাঁকে দেখা গেল—গামছা বাঁধা এক তরুণ বালুর নিচে পলিথিন খুঁজে খুঁজে তুলছেন, পাশে দাঁড়িয়ে একজন কচিকাঁচার ব্যবহৃত ভাঙা খেলনা হাতে নিয়ে বললেন, “এইটুকুও সমুদ্রে যাবে না।”

কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষদের শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী। উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ, ডিন ড. সাজেদুল হক, বিজ্ঞানী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ইনোভেশন সেন্টারের সভাপতি ড. আবু ইউসুফ প্রমুখ।

সন্ধ্যায় আয়োজিত আলোচনায় উঠে আসে সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা। বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক আজ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। প্রয়োজন একসঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা, জনগণের সচেতনতা, আর তরুণ প্রজন্মের সক্রিয়তা।

পবিপ্রবি আগেও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু IMFO’র এই আয়োজন যেন শুধুই একটি কর্মসূচি নয়—একটি প্রেমের ঘোষণা। যেখানে সমুদ্র শুধু গবেষণার বিষয় নয়, একটানা অনুভবের জগৎ।

 

প্রিন্ট করুন :