নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে||
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে এখন শুধু বেগুনি রঙের জারুল। গ্রীষ্মের খরতাপকে হার মানিয়ে পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাস জুড়ে যেন রাজত্ব কায়েম করেছে জারুল ফুল। প্রতিটি রাস্তার মোড়ে, প্রতিটি অনুষদ ভবনের সামনে ফুটে রয়েছে থোকা থোকা জারুল। সবুজ পাতা আর নীল আকাশের পটভূমিতে এই ফুল যেন এক অপূর্ব চিত্রকল্প এঁকে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, শহিদ মিনার এলাকা, প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা—সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে জারুলের ছড়াছড়ি। পিচঢালা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছে ফোঁটা এই ফুল পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহপরাণ মারুফ বলেন, “প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়ার পথে রাস্তার ওপর ঝরে পড়া জারুল ফুলের পাপড়ি দেখে মনে হয়, যেন বেগুনি গালিচা পেতে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে। এই দৃশ্য মনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার সময় পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে পারিনি। এবার যখন আসলাম, মনে হচ্ছে স্বপ্নের মতো একটি জায়গায় পড়ার সুযোগ পেতে চলেছি।”
প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী, শিক্ষার্থী, এমনকি বাইরের দর্শনার্থীরাও জারুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। অনেকেই মোবাইল বা ক্যামেরা হাতে প্রকৃতির এই রঙিন মুহূর্ত বন্দি করে রাখছেন ছবিতে কিংবা ভিডিওতে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রতি বছর গ্রীষ্মপ্রধান রঙিন ফুলের গাছ লাগানো হয় ক্যাম্পাসে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই জারুলবাহার।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ২৩শ একরের বেশি জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষার জন্যই নয়, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্যও বিখ্যাত।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 

























