সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত গৃহবধূ মোসা. শাবনুর আক্তার (২০) উপজেলার চরখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজিবর সিকদার বাড়ির পুত্রবধূ। তার বাবার বাড়ি গলাচিপা পৌরসভার সাগরদী রোড এলাকায়।
ভুক্তভোগী শাবনুর অভিযোগ করেন, সোমবার সকাল ৭টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করে স্বামী হাসান সিকদার, ননদ ফাতেমা বেগম, ননদের স্বামী মো. মহিউদ্দিন ও শ্বশুর-শাশুড়ি। একপর্যায়ে ননদের স্বামীর লাথিতে তলপেটে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তুষার আহমেদ বলেন, “শাবনুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তলপেটে গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থাও আশঙ্কাজনক।”
শাবনুর জানান, তার বাবার কাছ থেকে এর আগেও যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ২ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা না পেয়ে তাকে ঘর থেকে তাড়ানোর জন্য নির্যাতন চালানো হয়।
শাবনুরের বাবা হারুন গাজী বলেন, “আমি একজন দরিদ্র ইলেকট্রিক মেকার। আগেও জামাইকে টাকা দিয়েছি। এখন আবার ২ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে না পারায় মেয়েকে মারধর করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্বশুর মজিবর সিকদার বলেন, “আমরা মারধর করিনি, বোঝানোর চেষ্টা করেছি।” তবে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি শুনে আমি হাসপাতালে গিয়েছি। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবুল বশার প্যাদা বলেন, “শাবনুর খুব ভদ্র মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন টাকার জন্য সব করতে পারে—এমন খবর আগেও শুনেছি।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























