ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলি

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলিএকটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম যেন শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হতো। আঙিনায় বসে হারিকেন কিংবা কেরোসিনের চিমনির নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বই খুলে বসত। পাশের ঘর থেকে উচ্চস্বরে পড়া ভেসে আসত—যা ছিল একধরনের প্রেরণা। পড়ালেখা ছিল শৃঙ্খলার অংশ, আর সন্ধ্যার আজান মানেই পড়ার সময়।

সেই পড়ার সংস্কৃতি কেবল সন্ধ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফজরের আগের সময়, যখন চারদিক নিস্তব্ধ, তখনও অনেকেই উঠে পড়ত। কেউ মুখস্থ করত ছড়া-কবিতা, কেউ গণিতের সূত্র বা ভূগোলের মানচিত্র। শীতের সকালে কাঁথা থেকে বেরিয়ে গা কাঁপতে কাঁপতে বই হাতে নিয়ে পড়তে বসার দৃশ্য যেন আজ কেবল কল্পনায়ই দেখা যায়।

তবে এখন সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। সন্ধ্যার পর বইয়ের পাতার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিন। পড়ার সময় এখন বিনোদনে বিলীন। স্মার্টফোন, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক বা মোবাইল গেম এখন শিশু-কিশোরদের সন্ধ্যা ও রাতের সময় দখল করে নিচ্ছে।

এই পরিবর্তন শুধু সময়ের নয়, এটি মূল্যবোধেরও পরিবর্তন। আগে পরিবারে শিক্ষার যে পরিবেশ ছিল, এখন তার অনেকটাই গায়েব। শিশুরা এখন আর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে পড়তে বসে না, বরং তারা ভার্চুয়াল লড়াইয়ে মেতে ওঠে।

তবে এখনও সময় আছে। পরিবার ও সমাজ যদি আবার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সচেষ্ট হয়, তবে হয়তো আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যেও পুরনো সেই পড়ার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। হয়তো আর হারিকেনের আলো নয়, তবে ঘরের নরম বাতিতে আবার দেখা যাবে বই হাতে বসে থাকা শিশুর মুখ।

হারিয়ে যাওয়া সেই সন্ধ্যার পড়াশোনা আবার ফিরিয়ে আনার দায় আমাদেরই।

লেখক: মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইংরেজি শিক্ষক, আজিজ আহম্মেদ কলেজ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলি

Update Time : ০৯:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলিএকটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম যেন শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হতো। আঙিনায় বসে হারিকেন কিংবা কেরোসিনের চিমনির নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বই খুলে বসত। পাশের ঘর থেকে উচ্চস্বরে পড়া ভেসে আসত—যা ছিল একধরনের প্রেরণা। পড়ালেখা ছিল শৃঙ্খলার অংশ, আর সন্ধ্যার আজান মানেই পড়ার সময়।

সেই পড়ার সংস্কৃতি কেবল সন্ধ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফজরের আগের সময়, যখন চারদিক নিস্তব্ধ, তখনও অনেকেই উঠে পড়ত। কেউ মুখস্থ করত ছড়া-কবিতা, কেউ গণিতের সূত্র বা ভূগোলের মানচিত্র। শীতের সকালে কাঁথা থেকে বেরিয়ে গা কাঁপতে কাঁপতে বই হাতে নিয়ে পড়তে বসার দৃশ্য যেন আজ কেবল কল্পনায়ই দেখা যায়।

তবে এখন সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। সন্ধ্যার পর বইয়ের পাতার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিন। পড়ার সময় এখন বিনোদনে বিলীন। স্মার্টফোন, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক বা মোবাইল গেম এখন শিশু-কিশোরদের সন্ধ্যা ও রাতের সময় দখল করে নিচ্ছে।

এই পরিবর্তন শুধু সময়ের নয়, এটি মূল্যবোধেরও পরিবর্তন। আগে পরিবারে শিক্ষার যে পরিবেশ ছিল, এখন তার অনেকটাই গায়েব। শিশুরা এখন আর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে পড়তে বসে না, বরং তারা ভার্চুয়াল লড়াইয়ে মেতে ওঠে।

তবে এখনও সময় আছে। পরিবার ও সমাজ যদি আবার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সচেষ্ট হয়, তবে হয়তো আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যেও পুরনো সেই পড়ার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। হয়তো আর হারিকেনের আলো নয়, তবে ঘরের নরম বাতিতে আবার দেখা যাবে বই হাতে বসে থাকা শিশুর মুখ।

হারিয়ে যাওয়া সেই সন্ধ্যার পড়াশোনা আবার ফিরিয়ে আনার দায় আমাদেরই।

লেখক: মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইংরেজি শিক্ষক, আজিজ আহম্মেদ কলেজ।

প্রিন্ট করুন :