রাজনীতি হল তাঁর নিকট আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, মানবিকতাই হল প্রকৃত দর্শন। কেউ তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের অনুগামী না হলে, তাঁর মতাদর্শে শামিল হওয়ার আহ্বান করেনি। যাঁকে দলমত নির্বিশেষে সবাই আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পবিপ্রবি রোভার স্কাউটের সম্পাদক প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান। বর্তমানে —ভালো মনের আলোকিত এই মানুষটি ফুসফুসে ক্যান্সার নিয়ে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শুনে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে পবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী, সহকর্মী, বন্ধু-বন্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের।
তাঁর দ্রুত সুস্থতার কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, পবিপ্রবি পরিবার, তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি দু’আর জন্য আহবান করেছেন পবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইমদাদুল হক প্রিন্স।
সূত্র জানায়, আজ(২৪ এপ্রিল) তাঁর কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ইবি শাখার তৎকালীন সভাপতি ছিলেন। ২০০৭ সালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।
মানবিক আর উদার মনের এই মানুষটি সম্পর্কে মুহাম্মদ ইমদাদুল হক প্রিন্স এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জীবনে কিছু মানুষ এমনভাবে আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যান, যাঁদের অবদান শব্দে ধরা যায় না, শুধু হৃদয়ে বয়ে বেড়াতে হয়। তেমনি একজন মানুষ, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আশীর্বাদ, আমার অভিভাবকতুল্য বড় ভাই—প্রফেসর ড. মোঃ জিল্লুর রহমান। তাঁর উষ্ণতা পরশ পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ। একাধারে তিনি যেমন দক্ষ প্রশাসক, তেমনি একজন সহানুভূতিশীল সহকর্মী, প্রেরণাদায়ী অভিভাবক।
অতীতের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলির কথা স্মরণ করে তিনি আরও জানান, জীবনের শুরুতে যখন তিনি দিশেহারা এক তরুণ ছিলেন, তখন জিল্লুর রহমানই আমাকে সঠিক দিশা দেখিয়েছিলেন। গত ২০১০ সালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)তে জীবনে প্রথম আসার পর একাডেমিক বড় ভাই হিসেবে যাঁর আশ্রয়ে প্রথম আশ্রয় তিনি হলেন তার জিল্লু ভাই। তাঁর বাসায় প্রথম দিন উঠেছিলেন, সেদিনের আতিথেয়তা, আন্তরিকতা, আর ভালোবাসা আজও মনে লেগে আছে তার। প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান শুধু তাকে ভালোই বাসেননি, তাকে আপন ভাইয়ের মতো আগলে রেখেছেন। নিজের ঘরে জায়গা দিয়েছিলেন, নিজের খাবার ভাগ করে খাইয়েছিলেন এবং জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
মুহাম্মদ ইমদাদুল হক প্রিন্স এর ব্যক্তিগত জীবনে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান এর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তাঁর দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হলেও একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জিং দপ্তর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগে যোগ দিই—এমন এক সিদ্ধান্ত, যার পেছনে ছিল তাঁর দূরদৃষ্টি ও পরামর্শ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে আমাকে সেখানে পাঠিয়ে তিনি যে আস্থা রেখেছিলেন, তা আমার পেশাগত জীবনের এক অনন্য অর্জন। কর্মক্ষেত্রের জটিল মুহূর্তগুলোতে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি রচনার সময়, তাঁর প্রাজ্ঞ দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ আমাকে বহুবার উদ্ধার করেছে বিপদের মুখ থেকে।
ক্যাম্পাসজুড়ে বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে চলার সাহস যদি কিছু থেকে পেয়ে থাকি, তার বড় অংশজুড়ে আছেন তিনি—আমার প্রিয় জিল্লু ভাইয়া। জানি, তাঁর ছায়া আছে বলেই পথটা নিরাপদ, ভরসাময়।
আমি আজ শুধু একজন ছোট ভাই হিসেবে নয়, একজন ঋদ্ধ ও কৃতজ্ঞ মানুষ হিসেবে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার হাত তুলেছি—
হে দয়াময়, আমাদের প্রিয় জিল্লু ভাইয়াকে আপনি পরিপূর্ণ আরোগ্য দান করুন। তাঁর সমস্ত কষ্ট লাঘব করুন। তাঁকে সুস্থতা, প্রশান্তি ও দীর্ঘায়ু দান করুন। তিনি যেন আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, সেই চিরচেনা প্রাণবন্ত হাসিতে মুখর হয়ে, আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আলো ছড়ান।
পরমকরুণাময় অসীম দয়ালু রাব্বুল আলামিনের নিকট তিনি বলেন, হে আল্লাহ, তুমি জিল্লুর স্যারের জীবনের সব আঁধার দূর করে শক্তি দাও, সাহস দাও। তুমি তাঁকে আমাদের মাঝে আবার ফিরিয়ে দাও—সুস্থ, প্রাণবন্ত, আলোকিত একজন মানুষ হিসেবে। আমিন।
মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক 


























