ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে বেসরকারি শিক্ষকদের রিট : হাইকোর্টে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার ওপর নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পর সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল নিশি জারি করেছেন আদালত।

হাইকোর্টের বিশেষ মূল এখতিয়ারাধীন বেঞ্চে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ২২২৪৭/২০২৫-এর শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। রিট শুনানী করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবির।

রিটে আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ একাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক। রিটে তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা নতুন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারায় বলা হয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটির বেশি পেশা বা চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের সম্মানী বা অনারারিয়াম গ্রহণ করলে এমপিও বাতিলের বিধান প্রযোজ্য হবে।
রিটকারীদের দাবি, এই বিধান অসাংবিধানিক, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। বিশেষ করে সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হওয়ায়, কেবল এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে তা নিষিদ্ধ করা যায় না।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি রুল জারি করে জানতে চান,
কেন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারা বাতিল ঘোষণা করা হবে না।

আদালত জানান, রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকবে। আদেশের কপি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ২০০৮ ও ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে সেই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হয়। সেসব মামলায় আদালত রুল জারি করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমান রিটটি শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে বেসরকারি শিক্ষকদের রিট : হাইকোর্টে রুল জারি

Update Time : ১০:০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার ওপর নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পর সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল নিশি জারি করেছেন আদালত।

হাইকোর্টের বিশেষ মূল এখতিয়ারাধীন বেঞ্চে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ২২২৪৭/২০২৫-এর শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। রিট শুনানী করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবির।

রিটে আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ একাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক। রিটে তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা নতুন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারায় বলা হয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটির বেশি পেশা বা চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের সম্মানী বা অনারারিয়াম গ্রহণ করলে এমপিও বাতিলের বিধান প্রযোজ্য হবে।
রিটকারীদের দাবি, এই বিধান অসাংবিধানিক, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। বিশেষ করে সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হওয়ায়, কেবল এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে তা নিষিদ্ধ করা যায় না।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি রুল জারি করে জানতে চান,
কেন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারা বাতিল ঘোষণা করা হবে না।

আদালত জানান, রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকবে। আদেশের কপি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ২০০৮ ও ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে সেই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হয়। সেসব মামলায় আদালত রুল জারি করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমান রিটটি শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রিন্ট করুন :