ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

‎ঢালাই চলাকালেই ধসে পড়ল নির্মাণাধীন সেতুর পাটাতন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ‎

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ Time View



‎সৈয়দ নুর আহসান
‎গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আহম্মেদকাঠী গ্রামে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ঢালাই চলাকালেই শাটারিং (পাটাতন) ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির নির্মাণমান, তদারকি এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

‎বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন সেতুটিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।

‎গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ডায়নামিক আইটি শপ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, শাটারিং তৈরিতে পুরোনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি পানির মধ্যে দুর্বল ভিত্তির ওপর শাটারিং স্থাপন করায় ঢালাইয়ের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো পাটাতন কংক্রিটসহ খালের মধ্যে ধসে পড়ে।

‎তারা দাবি করেন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং যথাযথ প্রকৌশলগত মান অনুসরণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

‎এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেন, “নিচের স্ট্রাকচার ভালোভাবে সাপোর্ট না পাওয়ায় ঢালাই শুরু করার পরপরই শাটারিং ভেঙে পড়ে। নতুন করে শাটারিং তৈরি করে পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ করা হবে।

‎গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র দাস বলেন, “আমাদের কাউকে না জানিয়েই ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছি শাটারিং ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, “নির্মাণকাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান, প্রকৌশলগত তদারকি এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে পুনরায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

‎ঢালাই চলাকালেই ধসে পড়ল নির্মাণাধীন সেতুর পাটাতন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ‎

Update Time : ১১:০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬



‎সৈয়দ নুর আহসান
‎গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আহম্মেদকাঠী গ্রামে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ঢালাই চলাকালেই শাটারিং (পাটাতন) ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির নির্মাণমান, তদারকি এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

‎বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন সেতুটিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।

‎গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ডায়নামিক আইটি শপ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, শাটারিং তৈরিতে পুরোনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি পানির মধ্যে দুর্বল ভিত্তির ওপর শাটারিং স্থাপন করায় ঢালাইয়ের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো পাটাতন কংক্রিটসহ খালের মধ্যে ধসে পড়ে।

‎তারা দাবি করেন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং যথাযথ প্রকৌশলগত মান অনুসরণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

‎এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেন, “নিচের স্ট্রাকচার ভালোভাবে সাপোর্ট না পাওয়ায় ঢালাই শুরু করার পরপরই শাটারিং ভেঙে পড়ে। নতুন করে শাটারিং তৈরি করে পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ করা হবে।

‎গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র দাস বলেন, “আমাদের কাউকে না জানিয়েই ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছি শাটারিং ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, “নির্মাণকাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান, প্রকৌশলগত তদারকি এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে পুনরায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন :