ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনা

নিজস্ব সংবাদদাতা

একযুগেরও বেশি সময় পেছনে ফেলে আবারও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরছে সেই পুরনো বৃত্তি পরীক্ষা।
২০০৯ সালের পর বাতিল, ২০২২-এ ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এবার আর অপেক্ষা নয়—চিঠি গেছে সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। দিনক্ষণও মোটামুটি ঠিকঠাক।

শুক্রবার নয়, বৃহস্পতিবারই (১৭ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে চিঠি গেছে উপজেলা পর্যায়ে। তাতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখ—এই চার দিন ধরে হতে পারে বৃত্তি পরীক্ষা। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

চার বিষয়ে পরীক্ষা, একটি ‘মিশ্র পত্র’ও থাকছে!

পরীক্ষার বিষয় তালিকায় বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে এক অভিনব ধাঁচের প্রশ্নপত্র—বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান একত্রে, ৫০% করে নম্বর ভাগাভাগি করে হবে একটি মাত্র পরীক্ষা।
এক কথায়, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিনি সমন্বিত প্রশ্নপত্র’।

তবে সবাই নয়—৪০% ছাত্রছাত্রীরাই শুধু বসবে পরীক্ষায়

প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ভিত্তিতে বাছাই করা হবে অংশগ্রহণকারীদের। অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণির যেকোনো শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থী নয়, প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ভালো ফল করা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কেবল বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পেছনের গল্প

২০০৯ সালে চালু হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি)। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় পুরনো দিনের বৃত্তি পরীক্ষা।
তারপর আসে বহু বিতর্ক, আসে পরিবর্তন।
২০২২ সালে সরকার আবার ঘোষণা দেয়, বৃত্তি চালু হবে।
তবে কথার চেয়ে কাজ সহজ নয়—ঘোষণা ছিল, বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে এবার, অন্তর্বর্তী সরকার বৃত্তি ফেরানোর দিকে দৃঢ়।
অন্তত শিক্ষার্থীদের মুখে একটুখানি ‘অতিরিক্ত হাসি’ ফেরানোর আশায়।

মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তির যুগল ফেরত

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ‘মেধাবৃত্তি’। আর যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে, তাদের জন্য ‘উপবৃত্তি’ চালু থাকছেই।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে এই খবরে কিছুটা আশাবাদ, আবার কেউ কেউ বলছেন,
“বৃত্তি ফিরছে ভালো কথা, কিন্তু প্রস্তুতি, প্রশ্নপত্র, মনিটরিং—এসবও কি ফিরবে আগের মতো?”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনা

Update Time : ০১:৩০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা

একযুগেরও বেশি সময় পেছনে ফেলে আবারও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরছে সেই পুরনো বৃত্তি পরীক্ষা।
২০০৯ সালের পর বাতিল, ২০২২-এ ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এবার আর অপেক্ষা নয়—চিঠি গেছে সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। দিনক্ষণও মোটামুটি ঠিকঠাক।

শুক্রবার নয়, বৃহস্পতিবারই (১৭ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে চিঠি গেছে উপজেলা পর্যায়ে। তাতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখ—এই চার দিন ধরে হতে পারে বৃত্তি পরীক্ষা। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

চার বিষয়ে পরীক্ষা, একটি ‘মিশ্র পত্র’ও থাকছে!

পরীক্ষার বিষয় তালিকায় বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে এক অভিনব ধাঁচের প্রশ্নপত্র—বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান একত্রে, ৫০% করে নম্বর ভাগাভাগি করে হবে একটি মাত্র পরীক্ষা।
এক কথায়, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিনি সমন্বিত প্রশ্নপত্র’।

তবে সবাই নয়—৪০% ছাত্রছাত্রীরাই শুধু বসবে পরীক্ষায়

প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ভিত্তিতে বাছাই করা হবে অংশগ্রহণকারীদের। অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণির যেকোনো শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থী নয়, প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ভালো ফল করা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কেবল বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পেছনের গল্প

২০০৯ সালে চালু হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি)। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় পুরনো দিনের বৃত্তি পরীক্ষা।
তারপর আসে বহু বিতর্ক, আসে পরিবর্তন।
২০২২ সালে সরকার আবার ঘোষণা দেয়, বৃত্তি চালু হবে।
তবে কথার চেয়ে কাজ সহজ নয়—ঘোষণা ছিল, বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে এবার, অন্তর্বর্তী সরকার বৃত্তি ফেরানোর দিকে দৃঢ়।
অন্তত শিক্ষার্থীদের মুখে একটুখানি ‘অতিরিক্ত হাসি’ ফেরানোর আশায়।

মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তির যুগল ফেরত

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ‘মেধাবৃত্তি’। আর যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে, তাদের জন্য ‘উপবৃত্তি’ চালু থাকছেই।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে এই খবরে কিছুটা আশাবাদ, আবার কেউ কেউ বলছেন,
“বৃত্তি ফিরছে ভালো কথা, কিন্তু প্রস্তুতি, প্রশ্নপত্র, মনিটরিং—এসবও কি ফিরবে আগের মতো?”

প্রিন্ট করুন :