ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

দুর্নীতির অনুসন্ধানে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

মোহাম্মদ মাসুদ , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওসমান এহতেসাম এবং অন্যজন সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে আহত জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দার সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করেন। সেসময় জন্মনিবন্ধন সহকারী মো. মনসুরুল আলম মানিক ৭০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেন। এরপরই অফিসের সচিব সমর কৃষ্ণ দে ও মানিকের নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী পরিচয়ধারী কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, স্ট্যান্ড ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও বাকি জিনিসপত্র ফেরত মেলেনি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, “এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম বলেন, “সাড়ে তিন মাস ধরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে কাজ করেছি। প্রমাণ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবন থাকতে কলম চলবে—জীবন গেলেই থামবে।”

সাংবাদিকদের মতে, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

দুর্নীতির অনুসন্ধানে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

Update Time : ০৪:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

মোহাম্মদ মাসুদ , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওসমান এহতেসাম এবং অন্যজন সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে আহত জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দার সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করেন। সেসময় জন্মনিবন্ধন সহকারী মো. মনসুরুল আলম মানিক ৭০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেন। এরপরই অফিসের সচিব সমর কৃষ্ণ দে ও মানিকের নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী পরিচয়ধারী কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, স্ট্যান্ড ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও বাকি জিনিসপত্র ফেরত মেলেনি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, “এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম বলেন, “সাড়ে তিন মাস ধরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে কাজ করেছি। প্রমাণ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবন থাকতে কলম চলবে—জীবন গেলেই থামবে।”

সাংবাদিকদের মতে, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।

প্রিন্ট করুন :