ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার? পবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যকে মৃওিকা বিজ্ঞান বিভাগের সংবর্ধনা পবিপ্রবির উন্নয়নকাজে সরেজমিনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তোমার ভয় নেই কাউকে না পেলেও আমাকে পাবে,মায়ের অঙ্গীকারে ছেলের GPA-5 ‎দুমকিতে ১,৬১০ পিস ইয়াবা ও ৩৫ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার-১ ‎ ‎বাংলা কিউআর’ নিয়ে দুমকিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচি সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে নওগাঁর ১৩ প্রবাসী ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা সেই ভাইরাল মিজান গ্রেপ্তার অর্গানোগ্রাম ও জনবল পুনর্বিন্যাসে ইউজিসির সমর্থন চায় পবিপ্রবি ‘কমিটিতে শিক্ষক নিয়োগ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে’—উদ্বেগ সংশ্লিষ্টদের

দুর্নীতির অনুসন্ধানে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

মোহাম্মদ মাসুদ , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওসমান এহতেসাম এবং অন্যজন সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে আহত জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দার সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করেন। সেসময় জন্মনিবন্ধন সহকারী মো. মনসুরুল আলম মানিক ৭০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেন। এরপরই অফিসের সচিব সমর কৃষ্ণ দে ও মানিকের নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী পরিচয়ধারী কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, স্ট্যান্ড ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও বাকি জিনিসপত্র ফেরত মেলেনি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, “এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম বলেন, “সাড়ে তিন মাস ধরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে কাজ করেছি। প্রমাণ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবন থাকতে কলম চলবে—জীবন গেলেই থামবে।”

সাংবাদিকদের মতে, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শিক্ষার্থী ফেল, আসলে দায় কার?

দুর্নীতির অনুসন্ধানে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

Update Time : ০৪:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

মোহাম্মদ মাসুদ , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওসমান এহতেসাম এবং অন্যজন সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে আহত জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দার সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করেন। সেসময় জন্মনিবন্ধন সহকারী মো. মনসুরুল আলম মানিক ৭০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেন। এরপরই অফিসের সচিব সমর কৃষ্ণ দে ও মানিকের নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী পরিচয়ধারী কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, স্ট্যান্ড ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও বাকি জিনিসপত্র ফেরত মেলেনি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, “এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম বলেন, “সাড়ে তিন মাস ধরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে কাজ করেছি। প্রমাণ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবন থাকতে কলম চলবে—জীবন গেলেই থামবে।”

সাংবাদিকদের মতে, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।

প্রিন্ট করুন :