ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তেমনি এক ইচ্ছা পূরণ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেতকান্দি গ্রামের হামিদুল ইসলাম। ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম। এমন পাসের খবরে হামিদুল ইসলামকে  মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে ।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, অনেক বাধা পেরিয়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরী বোর্ডের অধীনে জিপিএ ৪.৫৭ পেয়েছে। তাই এখন তিনি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সরেজমিনে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রাম। এ গ্রামের হামিদুল ইসলাম ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য। হামিদুল ইসলাম ছোট থেকে  সংসারের হাল ধরেন পুরোদমে। তবে লেখাপড়া করতে না পারার আক্ষেপ তার রয়ে যায়। হামিদুল ইসলামের চার মেয়ে দুই ছেলে , পড়াশোনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন তিনি প্রতিজ্ঞা করেন ছেলে ,মেয়েকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি নিজে অন্তত এসএসসি পাশ করবেন। তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেদের সঙ্গে বাড়ির পাশে  বন্যাকান্দি দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। অনেকের নিন্দা ও বিরুপ মন্তব্যের মধ্যেও তিনি চালিয়ে যান তারা পড়ালেখা। ৫৪ বছর বয়সে তিনি বন্যাকান্দি দাখিল মাদ্রাসা  থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সঙ্গে ৪.৫৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এদিকে পাশের খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেল থেকে তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন স্থানীয়রা। তিনি এখন এলাকায় আলোচনার মূলকেন্দ্র। চলছে মিষ্টি বিতরণ।
তবে যারা  লেখাপড়ায় বিরোধিতা করেছিল তারা এখনও ফেসবুকে সমালোচনা করছেন বলে জানান তিনি।
হামিদুল ইসলামের  বড় ছেলে  হাবিবুল বাশার সোহাগ জানান, তিনি গর্বিত যে তার বাবা নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে এসএসসি পাস করেছেন। অপর ছেলে ফয়সাল  জানায়, তার বাবা সংসার চালিয়ে অবসর সময়ে যদি লেখাপড়া করে পাস করতে পারে তবে তারা কেন অনুকূল পরিবেশেও লেখাপড়া করতে পারবে না? সে তার বাবার ফলাফলে উচ্ছাস প্রকাশ করে জানায়, যেকোন মূল্যে আমাকে এসএসসি পরীক্ষায় সর্ব্বোচ্চ ভাল রেজাল্ট করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহব্বায়ক জয়নুল আবেদীন বাবলু বলেন, শিক্ষা গ্রহণে বয়স বাধা হতে পারে না। ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভবতিনি আরও বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া দেশ ও জাতি অন্ধকারে থাকবে। তাই আপনাদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠান। শিক্ষিতের হার বাড়লে বাড়বে দেশের নাম।
আর পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহব্বয়ক  আতাউর রহমান ছুটু জানান, হামিদুল ইসলামের পাস করার খবরে গ্রামের সুনাম বেড়েছে। তার মত বয়স্ক লোক জিপিএ ৪.৫৭ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আমার বিশ্বাস তাকে দেখে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অন্যরাও উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ হবে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে ঘিরে আনন্দে বিমোহিত। তিনি প্রমাণ করলেন, শিক্ষার কোনো বয়স লাগে না।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম

Update Time : ১১:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তেমনি এক ইচ্ছা পূরণ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেতকান্দি গ্রামের হামিদুল ইসলাম। ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম। এমন পাসের খবরে হামিদুল ইসলামকে  মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে ।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, অনেক বাধা পেরিয়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরী বোর্ডের অধীনে জিপিএ ৪.৫৭ পেয়েছে। তাই এখন তিনি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সরেজমিনে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রাম। এ গ্রামের হামিদুল ইসলাম ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য। হামিদুল ইসলাম ছোট থেকে  সংসারের হাল ধরেন পুরোদমে। তবে লেখাপড়া করতে না পারার আক্ষেপ তার রয়ে যায়। হামিদুল ইসলামের চার মেয়ে দুই ছেলে , পড়াশোনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন তিনি প্রতিজ্ঞা করেন ছেলে ,মেয়েকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি নিজে অন্তত এসএসসি পাশ করবেন। তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেদের সঙ্গে বাড়ির পাশে  বন্যাকান্দি দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। অনেকের নিন্দা ও বিরুপ মন্তব্যের মধ্যেও তিনি চালিয়ে যান তারা পড়ালেখা। ৫৪ বছর বয়সে তিনি বন্যাকান্দি দাখিল মাদ্রাসা  থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সঙ্গে ৪.৫৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এদিকে পাশের খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেল থেকে তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন স্থানীয়রা। তিনি এখন এলাকায় আলোচনার মূলকেন্দ্র। চলছে মিষ্টি বিতরণ।
তবে যারা  লেখাপড়ায় বিরোধিতা করেছিল তারা এখনও ফেসবুকে সমালোচনা করছেন বলে জানান তিনি।
হামিদুল ইসলামের  বড় ছেলে  হাবিবুল বাশার সোহাগ জানান, তিনি গর্বিত যে তার বাবা নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে এসএসসি পাস করেছেন। অপর ছেলে ফয়সাল  জানায়, তার বাবা সংসার চালিয়ে অবসর সময়ে যদি লেখাপড়া করে পাস করতে পারে তবে তারা কেন অনুকূল পরিবেশেও লেখাপড়া করতে পারবে না? সে তার বাবার ফলাফলে উচ্ছাস প্রকাশ করে জানায়, যেকোন মূল্যে আমাকে এসএসসি পরীক্ষায় সর্ব্বোচ্চ ভাল রেজাল্ট করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহব্বায়ক জয়নুল আবেদীন বাবলু বলেন, শিক্ষা গ্রহণে বয়স বাধা হতে পারে না। ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভবতিনি আরও বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া দেশ ও জাতি অন্ধকারে থাকবে। তাই আপনাদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠান। শিক্ষিতের হার বাড়লে বাড়বে দেশের নাম।
আর পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহব্বয়ক  আতাউর রহমান ছুটু জানান, হামিদুল ইসলামের পাস করার খবরে গ্রামের সুনাম বেড়েছে। তার মত বয়স্ক লোক জিপিএ ৪.৫৭ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আমার বিশ্বাস তাকে দেখে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অন্যরাও উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ হবে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে ঘিরে আনন্দে বিমোহিত। তিনি প্রমাণ করলেন, শিক্ষার কোনো বয়স লাগে না।
প্রিন্ট করুন :