মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি ||
পবিত্র কুরআন শিক্ষার বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় আরও উৎসাহী করতে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা–২০২৫’। জাতীয় হাফেজ ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ–এর বরগুনা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে নাখতুন (রাঃ) কলেজ রোডের প্রাঙ্গণজুড়ে এই দিনব্যাপী আয়োজন ছিল যেন এক ভিন্ন আবহ।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তারে কাজ করে আসছে জাতীয় হাফেজ ঐক্য পরিষদ। সমাজে শরীয়াহভিত্তিক সচেতনতা, পরিবারে আদর্শ গঠন, হালাল অর্থব্যবস্থা—সব মিলিয়ে সংগঠনটির ভূমিকা ক্রমেই প্রশংসিত হচ্ছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তিনটি বিভাগ—৫, ১০ ও ৩০ পারা। বয়স ১০ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত প্রতিনিধির কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ, ছবি ও কাগজপত্র জমা দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্তদের অংশগ্রহণ না করার নিয়ম মানা হয়েছে কঠোরভাবে। আয়োজকদের বক্তব্য, “বিচারকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। যুক্তিযুক্ত অভিযোগ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।”
প্রতিটি গ্রুপেই প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অর্জনকারীকে দেওয়া হয় সনদ ও আকর্ষণীয় পুরস্কার। শিশু-কিশোরদের সুন্দর তিলাওয়াতে অনুষ্ঠানস্থল এক সময় যেন মুগ্ধ নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোঃ কাওছার মাহমুদ। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন অন্ধ হুজুর হিসেবে পরিচিত হাফেজ মাহমুদুল হাসান মিরাজ। অতিথি হিসেবে ছিলেন মুফতি মাহবুব নাইম, হাফেজ মাওলানা জাকারিয়া ও হাফেজ আরাফাতসহ স্থানীয় আলেমসমাজ।
পাশাপাশি বরগুনা প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল হাফিজ, সহ–সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ ও অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর মৃধাসহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আয়োজকদের ভাষায়—“এসো কুরআনের আঙ্গিনায়—কিতাবুল্লাহর পথে হাত মিলাও”—স্লোগানকে সামনে রেখে এ আয়োজন তরুণ সমাজকে কুরআন শেখার প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পরিষদের প্রত্যাশা আরও বড়।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 










