নিজস্ব প্রতিবেদক||
দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে(বীর নিবাস প্রকল্প) ঘুষ নিয়ে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ছোরাপ শরীফের বিরুদ্ধে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তালিকায় অস্বচ্ছল হিসেবে যাদের দেখানো হয়েছে তারা হলেন- রহমান আকন, সুলতান হাওলাদার, খন্দকার আবদুর রহিম, রাজা অলিউল হক, হোচেন আলী খান, এস এম নূরুল ইসলাম, প্রয়াত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক মৃধা। মূলত, তাঁদের মধ্যে অনেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, জমির মালিক বা পরিবারের একাধিক সদস্য সরকারি চাকরিতে কর্মরত ও বীর নিবাসের পাশেই তারা বহুতল ভবনের মালিক।
অপরদিকে, যাঁদের স্বচ্ছল বলা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুল লতিফ মিয়া, মো. সফিজ উদ্দিন খান, টি এম আহমেদ ও প্রয়াত ডা. রাজেশ্বর হালদার। এঁদের সবারই বয়সজনিত অসুস্থতা, ভাঙাচোরা ঘর বা সীমিত আয় রয়েছে।
প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রাজেশ্বর হালদারের ছেলে রমেন হালদার বলেন, “ভাঙাচোরা ঘরে মা আর স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে আছি। প্রথমে ঘরের বরাদ্দের জন্য ছোরাপ শরীফকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন শুনছি আমরা স্বচ্ছল।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিজ উদ্দিন খান বলেন, ছোরাপ শরীফ দুই লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি বলেছি, ঘুষ দিয়ে ঘর লাগবে না, ভাঙা ঘরেই থাকব।”
তালিকা নির্ধারণ কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বলেন, “আমাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে—এটা জানতাম না। ইউএনও অফিসে ডেকে স্বাক্ষর দিতে ছোরাপ শরীফ চাপ দিয়েছেন, তাই দিয়েছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা ছোরাপ শরীফ বলেন, আমি কারো কাছে ঘর বরাদ্দের জন্য ঘুষ দাবি করিনি, কাউকে কোথাও স্বাক্ষর দিতেও চাপ প্রয়োগ করিনি।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, “ ৫ আগস্টের পর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউএনও অফিসে এসে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বলেন। সরেজমিন যাচাই তাঁরা করেছেন।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন, “আমরা যাচাই করিনি। মুক্তিযোদ্ধারাই যাচাই করেছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “এ প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের ৩১ আগস্টের এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এতে দুমকী উপজেলার ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম ছিল। প্রথম ধাপে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর দেওয়া হয়। পরে বাদ পড়া ৬ জনের ঘরের বরাদ্দ আসে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। ওই সময় উপজেলার মুরাদিয়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারিক ব্রাদার্সকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
তবে জুলাই বিপ্লবের পর ঘর বরাদ্দের তালিকায় পরিবর্তন আসে। অভিযোগ উঠেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানিয়ে নতুন তালিকা তৈরি করে এবং সেই তালিকায় কয়েকজন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে স্বচ্ছল এবং কিছু স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বচ্ছল হিসেবে দেখানো হয়। এতে চার জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার ঘর বরাদ্দ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















