নিজস্ব প্রতিবেদক||
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী নন্দিনী সরকার পূজা উদযাপনে ঝিনাইদহে মামার বাড়িতে গিয়ে মদপানের কারণে মারা গেছেন। রোববার (৫ অক্টোবর) ভোরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাউথ বাংলাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শাকিল আহমেদ।
নন্দিনীর বাবা অনিল চন্দ্র সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার পর পরিবারে বয়ে যায় খুশির হাওয়া। তবে পরিবার জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালানো বাবার জন্য মেয়েকে মেডিকেলে ভর্তি করানো কঠিন স্বপ্ন ছিল। সংবাদপত্রে নন্দিনীর সাফল্যের খবরে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপথের শুরুতেই থেমে গেল মেধাবী নন্দিনীর জীবন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নন্দিনী সরকার প্রতিবছর চাচা গণেশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে সপ্তমীর দিন ঝিনাইদহের শৈলকুপার ভান্ডারিয়া গ্রামে আসেন। বিজয়া দশমীতে বিকেলে নন্দিনী বান্ধবীদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনে যায় এবং ওই সময় মদপান করে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে একই রাতে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার রাতে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোরে নন্দিনী মারা যান।
নন্দিনীর নানা সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, দশমীর দিনে বান্ধবীদের সঙ্গে বিসর্জনে মদপান করে এমন জানা যায়।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন বলেন, শনিবার রাতে নন্দিনী নামে এক তরুণী মদপানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মদ বিক্রেতাকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















