ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

পবিপ্রবিতে শহীদ জিয়াকে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও সংকল্প—উদ্দীপ্ত প্রজন্মের চোখে এক রাষ্ট্রনায়কের আদর্শ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ||

আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের এক অনলবর্ষিত আবহে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে পালিত হল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। শুধুই স্মরণ নয়—এ যেন এক মানবিক সম্মেলন, এক আদর্শের আলোকবর্তিকা ধরে সামনে এগিয়ে চলার শপথ।

বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স রুমে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), পবিপ্রবি ইউনিটের আয়োজনে এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে অনুভূত হয়—কীভাবে একজন যোদ্ধা রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়ে জাতির চেতনাভূমিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান কেবল ইতিহাসের চরিত্র নন—তিনি এক নৈতিক আলো, যিনি আমাদের পথ দেখান, অনুপ্রেরণা জোগান।”

বিশেষ অতিথি ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “একজন যোদ্ধা যখন রাষ্ট্রনায়ক হন, তখন তার রাষ্ট্রচিন্তার ভিত গড়ে ওঠে যুদ্ধজয়ী আত্মবিশ্বাসে। শহীদ জিয়া ছিলেন সেই ব্যতিক্রমী স্থপতি, যিনি যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদার পথ দেখিয়েছেন।”

সভাপতিত্ব করেন ইউট্যাব, পবিপ্রবি ইউনিটের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: মামুন অর রশিদ। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্মরণ করিয়ে দেন—এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য-সচিব প্রফেসর ড. মো: মাসুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষদের ডিন, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরব উপস্থিতি ছিল। বক্তব্য রাখেন প্রফেসর বদিউজ্জামাল, প্রফেসর ড. মহসিন হোসেন খান, ড. দেলোয়ার হোসেন, ড. আতিকুর রহমান, ড. খোকন হোসেন, রেজিস্ট্রার ড. ইকতিয়ার উদ্দিন, জনসংযোগ বিভাগের মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজসহ অনেকেই।

তাঁদের ভাষণে উঠে আসে—শহীদ জিয়া শুধু একজন সেনানায়ক নন, বরং ছিলেন রাজনৈতিক ঐক্য ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, কৃষি ও শিল্পখাতে নবজাগরণের স্থপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারাও শহীদ রাষ্ট্রপতির আদর্শ ও প্রেরণাকে নিজেদের জীবনবোধে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দোয়া ও মোনাজাতে ছিল অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা—একটি আত্মার মুক্তির কামনায়, আর একটি জাতির নবউত্থানের প্রার্থনায়।

পুরো অনুষ্ঠানে ছিল এক অনাবিল ভাবগম্ভীর পরিবেশ—যেখানে অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের দায়বোধ আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি একত্র হয়ে তৈরি করেছে এক অনন্য উপলব্ধির আবহ।

শেষবাক্য নয়—এ যেন শুরু একটি নতুন যাত্রার, শহীদ রাষ্ট্রনায়কের আদর্শ ছুঁয়ে জীবনের পাণ্ডুলিপি নতুন করে লেখার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

পবিপ্রবিতে শহীদ জিয়াকে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও সংকল্প—উদ্দীপ্ত প্রজন্মের চোখে এক রাষ্ট্রনায়কের আদর্শ

Update Time : ০৬:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ||

আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের এক অনলবর্ষিত আবহে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে পালিত হল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। শুধুই স্মরণ নয়—এ যেন এক মানবিক সম্মেলন, এক আদর্শের আলোকবর্তিকা ধরে সামনে এগিয়ে চলার শপথ।

বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স রুমে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), পবিপ্রবি ইউনিটের আয়োজনে এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে অনুভূত হয়—কীভাবে একজন যোদ্ধা রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়ে জাতির চেতনাভূমিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান কেবল ইতিহাসের চরিত্র নন—তিনি এক নৈতিক আলো, যিনি আমাদের পথ দেখান, অনুপ্রেরণা জোগান।”

বিশেষ অতিথি ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “একজন যোদ্ধা যখন রাষ্ট্রনায়ক হন, তখন তার রাষ্ট্রচিন্তার ভিত গড়ে ওঠে যুদ্ধজয়ী আত্মবিশ্বাসে। শহীদ জিয়া ছিলেন সেই ব্যতিক্রমী স্থপতি, যিনি যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদার পথ দেখিয়েছেন।”

সভাপতিত্ব করেন ইউট্যাব, পবিপ্রবি ইউনিটের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: মামুন অর রশিদ। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্মরণ করিয়ে দেন—এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য-সচিব প্রফেসর ড. মো: মাসুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষদের ডিন, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরব উপস্থিতি ছিল। বক্তব্য রাখেন প্রফেসর বদিউজ্জামাল, প্রফেসর ড. মহসিন হোসেন খান, ড. দেলোয়ার হোসেন, ড. আতিকুর রহমান, ড. খোকন হোসেন, রেজিস্ট্রার ড. ইকতিয়ার উদ্দিন, জনসংযোগ বিভাগের মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজসহ অনেকেই।

তাঁদের ভাষণে উঠে আসে—শহীদ জিয়া শুধু একজন সেনানায়ক নন, বরং ছিলেন রাজনৈতিক ঐক্য ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, কৃষি ও শিল্পখাতে নবজাগরণের স্থপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারাও শহীদ রাষ্ট্রপতির আদর্শ ও প্রেরণাকে নিজেদের জীবনবোধে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দোয়া ও মোনাজাতে ছিল অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা—একটি আত্মার মুক্তির কামনায়, আর একটি জাতির নবউত্থানের প্রার্থনায়।

পুরো অনুষ্ঠানে ছিল এক অনাবিল ভাবগম্ভীর পরিবেশ—যেখানে অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের দায়বোধ আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি একত্র হয়ে তৈরি করেছে এক অনন্য উপলব্ধির আবহ।

শেষবাক্য নয়—এ যেন শুরু একটি নতুন যাত্রার, শহীদ রাষ্ট্রনায়কের আদর্শ ছুঁয়ে জীবনের পাণ্ডুলিপি নতুন করে লেখার।

প্রিন্ট করুন :