ভোলা প্রতিনিধি |
ভোলার চরফ্যাশনের এক প্রত্যন্ত দ্বীপ — মুজিবনগর ইউনিয়নের চরমনোহর গ্রাম। কাগজে-কলমে শান্তিপূর্ণ গ্রামীণ জনপদ। বাস্তবে? রীতিমতো এক আতঙ্কের জনপদে রূপ নিয়েছে এলাকাটি। আর এই আতঙ্কের নাম—খোকন বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় জমি দখল, গরু চুরি, অস্ত্রের মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে খোকনের নেতৃত্বাধীন এক সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। ভোলার চরাঞ্চলের নিরীহ মানুষ যেন কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত—“আর পারছি না!”
—
🔥 বাজারে বিক্ষোভ, খোকনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল জনতা
শুক্রবার, চান মিয়া বাজারে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ কণ্ঠ মিলিয়েছেন—“সন্ত্রাসী খোকনের বিচার চাই!”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন বাহিনী প্রায় ২০-২৫ জন সদস্য নিয়ে চর দখল থেকে শুরু করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, এমনকি ভুয়া কাগজে জমি বিক্রির মত প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।
—
🧾 কেরাত স্কুল না সন্ত্রাসের ঘাঁটি?
একটি ‘কেরাত স্কুল’—সেই নামেই চলে বাহিনীর যুবক প্রশিক্ষণ। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, “ওরা বলে কোরআন শিখায়, কিন্তু রাতে সেখানে চলে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ।”
একজন দোকানদার জানালেন—“ভয়ে নাম বলতে চাই না ভাই। খোকনের লোকজন দিনের বেলায় বাজারে ঘুরে বেড়ায়, কেউ চোখ তুলে তাকায় না।”
—
🎙️ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ?
মুজিবনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ বেপারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
> “খোকন বাহিনী চরাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আগে ধরা পড়লেও, রাজনৈতিক পালাবদলে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।”
—
🧍♂️ প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
জনগণের একটাই দাবি—“অবিলম্বে খোকন ও তার বাহিনীকে গ্রেফতার করুক প্রশাসন।”
কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুলিশের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
—
☎️ খোকনের পাল্টা বক্তব্য
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে খোকন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—
> “সব মিথ্যা কথা। আমার বিরুদ্ধে বলা কথা ভিত্তিহীন। আমি আপনাদের সামনে এসে সব বলব।”
—
চরমনোহরের আকাশে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে একটাই প্রশ্ন—
> “কারা এই বাহিনীর পেছনে? আর কতদিন চলবে সাধারণ মানুষের এই দুঃসহ জীবন?”
জনগণ জবাব চায়, শান্তি চায়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায়—এখনই!
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















