ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ইটভাটার শ্রমিক থেকে লাখপতি: পোনা মাছ চাষ করেই ভাগ্য বদল

পাবনা প্রতিনিধি||

একসময় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল মতিন। পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়া সেই মানুষটি আজ পরিচিত সফল পোনা মাছ চাষি হিসেবে। শুধু উন্নতজাতের পোনা মাছ চাষ করে এখন মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা।

মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মাত্র ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। পিকেএসএফের অর্থায়নে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় একটি পুকুরে শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা। এক বছরের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা লাভ করে তাক লাগিয়ে দেন চারপাশের মানুষকে। এখন তার ৫টি পুকুরে চাষ হয় সুবর্ণ জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার ও গ্লাসকাপ জাতের মাছের পোনা।

মতিন জানান, “সুবর্ণ রুই খুব দ্রুত বড় হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ বাদ দিয়েই প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হয়।”

তাঁর খামারে উৎপাদিত পোনা মাছ যাচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, যশোর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে। তার খামারে প্রতিদিন ভিড় করছেন পোনা সংগ্রহকারীরা।

স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “মতিন ভাইকে দেখে আমিও পোনা মাছ চাষ শুরু করেছি। ভাবিনি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়।”

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পাবনা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “মতিনের মতো ১২১ জন কৃষককে আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ চাষে স্বাবলম্বী করেছি।”

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গত বছর পাবনায় মাছ উৎপাদন হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের মৎস্য খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতিনের মতো চাষিরা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

মতিন এখন শুধু একজন সফল চাষি নন, বরং আশেপাশের অনেক বেকার ও আগ্রহীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

 


আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনটি প্রিন্ট বা অনলাইন পত্রিকার জন্য সম্পাদনা সহ আরও ঘষেমেজে উপস্থাপন করতেও সাহায্য করতে পারি। চাইলে বলবেন?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

ইটভাটার শ্রমিক থেকে লাখপতি: পোনা মাছ চাষ করেই ভাগ্য বদল

Update Time : ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

পাবনা প্রতিনিধি||

একসময় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল মতিন। পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়া সেই মানুষটি আজ পরিচিত সফল পোনা মাছ চাষি হিসেবে। শুধু উন্নতজাতের পোনা মাছ চাষ করে এখন মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা।

মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মাত্র ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। পিকেএসএফের অর্থায়নে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় একটি পুকুরে শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা। এক বছরের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা লাভ করে তাক লাগিয়ে দেন চারপাশের মানুষকে। এখন তার ৫টি পুকুরে চাষ হয় সুবর্ণ জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার ও গ্লাসকাপ জাতের মাছের পোনা।

মতিন জানান, “সুবর্ণ রুই খুব দ্রুত বড় হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ বাদ দিয়েই প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হয়।”

তাঁর খামারে উৎপাদিত পোনা মাছ যাচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, যশোর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে। তার খামারে প্রতিদিন ভিড় করছেন পোনা সংগ্রহকারীরা।

স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “মতিন ভাইকে দেখে আমিও পোনা মাছ চাষ শুরু করেছি। ভাবিনি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়।”

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পাবনা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “মতিনের মতো ১২১ জন কৃষককে আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ চাষে স্বাবলম্বী করেছি।”

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গত বছর পাবনায় মাছ উৎপাদন হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের মৎস্য খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতিনের মতো চাষিরা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

মতিন এখন শুধু একজন সফল চাষি নন, বরং আশেপাশের অনেক বেকার ও আগ্রহীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

 


আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনটি প্রিন্ট বা অনলাইন পত্রিকার জন্য সম্পাদনা সহ আরও ঘষেমেজে উপস্থাপন করতেও সাহায্য করতে পারি। চাইলে বলবেন?

প্রিন্ট করুন :