ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

ইটভাটার শ্রমিক থেকে লাখপতি: পোনা মাছ চাষ করেই ভাগ্য বদল

পাবনা প্রতিনিধি||

একসময় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল মতিন। পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়া সেই মানুষটি আজ পরিচিত সফল পোনা মাছ চাষি হিসেবে। শুধু উন্নতজাতের পোনা মাছ চাষ করে এখন মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা।

মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মাত্র ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। পিকেএসএফের অর্থায়নে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় একটি পুকুরে শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা। এক বছরের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা লাভ করে তাক লাগিয়ে দেন চারপাশের মানুষকে। এখন তার ৫টি পুকুরে চাষ হয় সুবর্ণ জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার ও গ্লাসকাপ জাতের মাছের পোনা।

মতিন জানান, “সুবর্ণ রুই খুব দ্রুত বড় হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ বাদ দিয়েই প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হয়।”

তাঁর খামারে উৎপাদিত পোনা মাছ যাচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, যশোর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে। তার খামারে প্রতিদিন ভিড় করছেন পোনা সংগ্রহকারীরা।

স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “মতিন ভাইকে দেখে আমিও পোনা মাছ চাষ শুরু করেছি। ভাবিনি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়।”

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পাবনা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “মতিনের মতো ১২১ জন কৃষককে আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ চাষে স্বাবলম্বী করেছি।”

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গত বছর পাবনায় মাছ উৎপাদন হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের মৎস্য খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতিনের মতো চাষিরা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

মতিন এখন শুধু একজন সফল চাষি নন, বরং আশেপাশের অনেক বেকার ও আগ্রহীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

 


আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনটি প্রিন্ট বা অনলাইন পত্রিকার জন্য সম্পাদনা সহ আরও ঘষেমেজে উপস্থাপন করতেও সাহায্য করতে পারি। চাইলে বলবেন?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

ইটভাটার শ্রমিক থেকে লাখপতি: পোনা মাছ চাষ করেই ভাগ্য বদল

Update Time : ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

পাবনা প্রতিনিধি||

একসময় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল মতিন। পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়া সেই মানুষটি আজ পরিচিত সফল পোনা মাছ চাষি হিসেবে। শুধু উন্নতজাতের পোনা মাছ চাষ করে এখন মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা।

মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মাত্র ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। পিকেএসএফের অর্থায়নে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় একটি পুকুরে শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা। এক বছরের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা লাভ করে তাক লাগিয়ে দেন চারপাশের মানুষকে। এখন তার ৫টি পুকুরে চাষ হয় সুবর্ণ জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার ও গ্লাসকাপ জাতের মাছের পোনা।

মতিন জানান, “সুবর্ণ রুই খুব দ্রুত বড় হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ বাদ দিয়েই প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হয়।”

তাঁর খামারে উৎপাদিত পোনা মাছ যাচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, যশোর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে। তার খামারে প্রতিদিন ভিড় করছেন পোনা সংগ্রহকারীরা।

স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “মতিন ভাইকে দেখে আমিও পোনা মাছ চাষ শুরু করেছি। ভাবিনি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়।”

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পাবনা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “মতিনের মতো ১২১ জন কৃষককে আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ চাষে স্বাবলম্বী করেছি।”

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গত বছর পাবনায় মাছ উৎপাদন হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের মৎস্য খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতিনের মতো চাষিরা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

মতিন এখন শুধু একজন সফল চাষি নন, বরং আশেপাশের অনেক বেকার ও আগ্রহীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

 


আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনটি প্রিন্ট বা অনলাইন পত্রিকার জন্য সম্পাদনা সহ আরও ঘষেমেজে উপস্থাপন করতেও সাহায্য করতে পারি। চাইলে বলবেন?

প্রিন্ট করুন :