তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি||
উপকূলের বাতাসে এখন এক নতুন সুর। ঢেউয়ের গর্জন পেরিয়ে মহেশখালীর জলেয়ারমার ঘাটে পৌঁছালেই চোখে পড়ে এক রূপান্তরের গল্প—‘জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’। একসময় অবহেলিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিদ্যালয়ের হাল ধরেছেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কাইছার লিটন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বদলে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের চেহারা—পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ আর নতুন উদ্যমে ভরপুর শিক্ষার্থীরা যেন স্বপ্ন দেখছে বড় কিছু করার।
বিদ্যালয়ে এখন চালু হয়েছে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—সব বিভাগই। ফলে দূরবর্তী দ্বীপের শিক্ষার্থীদের আর মূল ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ার দরকার নেই। এখানেই মিলছে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা।
প্রধান শিক্ষক লিটনের হাত ধরে ফিরেছে ছাত্রাবাসের প্রাণচাঞ্চল্য। বিকেলে ক্লাস শেষে সান্ধ্যকালীন পাঠচক্রে ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীরা। স্থাপিত হয়েছে দুটি আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও বিশেষ কম্পিউটার ক্লাস। এমনকি ফলাফলও এখন প্রকাশ হয় ডিজিটাল মাধ্যমে। এবারের এসএসসিতে বিদ্যালয়ের পাশের হার ৯৬.২ শতাংশ—উপকূলের শিক্ষায় এক নতুন ইতিহাস।
বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অনন্য এক উদ্যোগ—‘সততা স্টোর’। শিক্ষকবিহীন এই দোকানে শিক্ষার্থীরাই পণ্য নেয়, মূল্য রাখে নির্ধারিত বাক্সে। শেখে সততা, আত্মনিয়ন্ত্রণ আর দায়িত্ববোধ—যা বইয়ের পাতা ছাড়িয়ে জীবনের পাঠ হয়ে উঠছে।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও প্রাণ ফিরেছে। নিয়মিত হয় আন্তঃশ্রেণি ফুটবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, স্কাউট ক্যাম্প, সাংস্কৃতিক উৎসব। স্কুল প্রাঙ্গণজুড়ে এখন ফুল ও ফলের গাছ, শিশুর হাসি আর আশার সবুজ রঙ। নতুন ড্রেস কোডে যুক্ত হয়েছে টাই আর কেডস—শৃঙ্খলায় ফুটে উঠছে আধুনিকতার ছোঁয়া।
বিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, নির্মিত হয়েছে অডিটোরিয়াম ও উন্নত খেলার মাঠ।
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রশাসনের সুপারিশে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কাইছার লিটন পেয়েছেন ‘মাদার তেরেসা সম্মাননা’।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, “লিটন স্যারের পরিশ্রম আর দূরদর্শিতায় স্কুলটি সত্যিই আদর্শ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।”
প্রধান শিক্ষক কাইছার লিটনের কণ্ঠে ভবিষ্যতের প্রত্যয়—“বিদ্যালয় কেবল পাঠদানের স্থান নয়, এটি স্বপ্ন বুননের ক্ষেত্র। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা বইয়ের জ্ঞানকে জীবনের প্রয়োগে রূপ দিক। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ক্লাসরুম আর নৈতিক শিক্ষার মিশেলে আমরা বদলে দিচ্ছি শেখার ধরণ। আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফল নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















