ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ 

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি পরিবারকে এক বছরের বেশি সময় ধরে একঘরে করে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর তালঠি পল্লীতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রবি কিস্কু জানান, গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাস জমি নিয়ে বিরোধের পর রঞ্জিত ও কর্নেলের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় মোড়ল জসেপ সরেন তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করেন। গ্রামের দোকান থেকে বাজার করা, কারও সঙ্গে কথা বলা, এমনকি শিশুদের স্কুলে যেতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবি কিস্কুর স্ত্রী জুলিতা মুরমু থানায় দেয়া আরেকটি অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকাকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ক্লাব ঘরে ডেকে নিয়ে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে হুমকি দেওয়া হয় যে, তার পরিবারকে একঘরে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, গ্রামের সালিশে বিচারকরা ১৫ হাজার টাকায় স্থানীয়দের খাওয়ানোর শর্ত দেন সমাজে ফেরার জন্য। টাকা দিলেও খাওয়ার স্থান নিয়ে মতবিরোধে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় এবং পরিবারটির একঘরে থাকা অব্যাহত থাকে।

ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলা কিংবা শিক্ষাজীবনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রবি কিস্কু ও জুলিতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গাফফার বলেন, বিষয়টি তিনি “আংশিক শুনেছেন”, তবে বিস্তারিত জানেন না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, তিনি জমি নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছেন, তবে একঘরে করার বিষয়ে অবগত নন।

তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, কাউকে সমাজচ্যুত করে রাখার কোনো আইনগত অধিকার কারো নেই। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানও অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ 

Update Time : ১০:১৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি পরিবারকে এক বছরের বেশি সময় ধরে একঘরে করে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর তালঠি পল্লীতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রবি কিস্কু জানান, গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাস জমি নিয়ে বিরোধের পর রঞ্জিত ও কর্নেলের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় মোড়ল জসেপ সরেন তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করেন। গ্রামের দোকান থেকে বাজার করা, কারও সঙ্গে কথা বলা, এমনকি শিশুদের স্কুলে যেতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবি কিস্কুর স্ত্রী জুলিতা মুরমু থানায় দেয়া আরেকটি অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকাকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ক্লাব ঘরে ডেকে নিয়ে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে হুমকি দেওয়া হয় যে, তার পরিবারকে একঘরে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, গ্রামের সালিশে বিচারকরা ১৫ হাজার টাকায় স্থানীয়দের খাওয়ানোর শর্ত দেন সমাজে ফেরার জন্য। টাকা দিলেও খাওয়ার স্থান নিয়ে মতবিরোধে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় এবং পরিবারটির একঘরে থাকা অব্যাহত থাকে।

ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলা কিংবা শিক্ষাজীবনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রবি কিস্কু ও জুলিতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গাফফার বলেন, বিষয়টি তিনি “আংশিক শুনেছেন”, তবে বিস্তারিত জানেন না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, তিনি জমি নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছেন, তবে একঘরে করার বিষয়ে অবগত নন।

তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, কাউকে সমাজচ্যুত করে রাখার কোনো আইনগত অধিকার কারো নেই। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানও অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

প্রিন্ট করুন :