জুলহাস উদ্দিন, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের খয়খাটপাড়া গ্রামে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত দুইজন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টার আলী ও প্রতিপক্ষের মধ্যে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষ আদালতের পরামর্শ নেয়ার কথা বলে উপস্থিতি থেকে বিরত থাকে।
সর্বশেষ গত ৬ মে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টায় অভিযুক্ত সামাদ, শাহাবুদ্দিন, মাহাবুব, আরিফুল, মামুন, এরশাদুল, শফিজ উদ্দীন, আবেদা, আরফিনা, মিলু আক্তার, আদর্শ, ও আনঞ্জু সহ মোট ১২-১৩ জন সংঘবদ্ধভাবে লাঠি-সোটা, ধারালো অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা জমির ভেতরে রোপণ করা প্রায় ১৫০টি চারা গাছ উপড়ে ফেলে এবং সীমানা প্রাচীর, বাঁশঝাড়সহ আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
বাদীপক্ষের লোকজন বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দুইজন আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গ্রামবাসী ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় সামাদ ও শাহাবুদ্দিন বাদী মিষ্টার আলীর বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মিষ্টার আলীর স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, “আমি বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ দেখি সামাদ ও শাহাব খড়ের পুঞ্জিতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেয়।” খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর বাদীপক্ষ তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের সহিংসতা ও দখল প্রচেষ্টা এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 





















