ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

জুলাই বিপ্লবে শহিদ শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে বাধা, সিআইডির দল ফিরল খালি হাতে

সাভার প্রতিবেদক||

শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেয়নি তার পরিবার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আপত্তির মুখে সিআইডি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে আদালতের নির্দেশে আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্তের জন্য ডেইরি ফার্ম আবাসিক এলাকার কবরস্থান থেকে শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে যায়।

তবে খবর পেয়ে দ্রুত কবরস্থানে পৌঁছান শহীদ শ্রাবণের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা ধর্মীয় অনুভূতির কথা জানিয়ে মরদেহ উত্তোলনে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে আসে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন সিআইডির দল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে আমরা মরদেহ উত্তোলন থেকে বিরত থাকছি। আদালতকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জানানো হবে।”

শ্রাবণ গাজী ছিলেন মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ১৬ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন এবং ৫ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা অভিমুখে আয়োজিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

সাভারে পদযাত্রাটি পৌঁছালে হঠাৎ একটি গুলি এসে শ্রাবণের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

গণঅভ্যুত্থানে প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো তরুণ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান শহীদ শ্রাবণ গাজী।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

জুলাই বিপ্লবে শহিদ শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে বাধা, সিআইডির দল ফিরল খালি হাতে

Update Time : ১০:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

সাভার প্রতিবেদক||

শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেয়নি তার পরিবার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আপত্তির মুখে সিআইডি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে আদালতের নির্দেশে আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্তের জন্য ডেইরি ফার্ম আবাসিক এলাকার কবরস্থান থেকে শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে যায়।

তবে খবর পেয়ে দ্রুত কবরস্থানে পৌঁছান শহীদ শ্রাবণের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা ধর্মীয় অনুভূতির কথা জানিয়ে মরদেহ উত্তোলনে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে আসে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন সিআইডির দল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে আমরা মরদেহ উত্তোলন থেকে বিরত থাকছি। আদালতকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জানানো হবে।”

শ্রাবণ গাজী ছিলেন মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ১৬ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন এবং ৫ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা অভিমুখে আয়োজিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

সাভারে পদযাত্রাটি পৌঁছালে হঠাৎ একটি গুলি এসে শ্রাবণের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

গণঅভ্যুত্থানে প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো তরুণ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান শহীদ শ্রাবণ গাজী।

 

প্রিন্ট করুন :