সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী||
“হাসপাতালে গেলে অসুস্থতা আরও বাড়ে”—রবিবার সকালে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে এমন অভিযোগই তুললেন সাধারণ মানুষ। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে একজোট হন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ পেশাজীবীরা।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে মুখর ছিল এলাকা। আয়োজক—উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।
বক্তারা অভিযোগ তোলেন, বছরের পর বছর ধরে এই হাসপাতালে চলছে চরম অনিয়ম। চিকিৎসক ও নার্সদের খারাপ আচরণ, ওষুধ সংকট, অপরিষ্কার টয়লেট, বাথরুম, হাসপাতাল চত্বর—সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় চিত্র। রোগীদের জোর করে অতিরিক্ত টেস্ট করানো হয়, বিদ্যুৎ গেলেই জেনারেটর বন্ধ, ভবন বেহাল। জরুরি বিভাগে সেবা নিতে গেলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ-সরঞ্জাম কিনে আনতে হয়।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্যে বলেন, “এই হাসপাতালের এমন করুণ অবস্থা যেন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয় রোগীদের। প্রশাসন ঘুমিয়ে আছে, স্বাস্থ্যসেবা আজ হাস্যকর পর্যায়ে নেমে গেছে।”
এদিন শিক্ষার্থী নাইমা হক মেঘলা ও তরিকুল ইসলাম মুন্না ৯ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা,
খাদ্যতালিকা ও সরকারি বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ,
৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগ,
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার,
গর্ভবতী মায়েদের জন্য সিজার ও আধুনিক ল্যাব স্থাপন,
ডিজিটাল টোকেন ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু,
ডাক্তারের ডিউটি মনিটরিং ও সচল অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিতকরণ।
তাদের হুঁশিয়ারি—“দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে।”
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার হাতে স্মারকলিপি জমা দেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “জনবল সংকটের কথা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে যা করা সম্ভব, তা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপার মানুষের দাবি—হাসপাতাল যেন সত্যিই “চিকিৎসার আশ্রয়স্থল” হয়ে ওঠে, ভয় নয়।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















