ভোলা প্রতিনিধি||
ভোলার চরফ্যাশনে মিরাজ নামের এক যুবক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. মিহির হাওলাদার।
আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিহির হাওলাদার জানান, আড়াই বছর আগে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে লঞ্চের কেবিনে মিরাজ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে আটকে রাখে। পরে এক অচেনা তরুণীকে কেবিনে প্রবেশ করিয়ে ভিডিও ধারণ করে ২ লাখ টাকা দাবি করে। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে ওষুধ কেনার ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় তারা।
মিহিরের অভিযোগ, এরপর ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে আরও ৬০ হাজার টাকা নেয় মিরাজ। সম্প্রতি আবারও ১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং পরিবার মানসিক চাপে পড়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী লাভলী আক্তার, চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হাওলাদার, মনির হাওলাদারসহ পরিবারের সদস্যরা।
জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘মিরাজ ও তাঁর চক্র এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় আছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি চরফ্যাশনে নারীকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা বেড়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত মিরাজ চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিরাজের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















