ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

Update Time : ০২:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

প্রিন্ট করুন :