ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

Update Time : ০২:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

প্রিন্ট করুন :