ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

পায়রা সেতুতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের

Update Time : ০২:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব পায়রা সেতু এখন যেন লোহার খাঁচায় বন্দি এক শিল্পকর্ম। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে উঁচু কংক্রিট প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল। এতে নষ্ট হচ্ছে সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চার লেনের এই সেতু। দ্রুতই এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই বিশেষ করে বিকেল ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন নদীর দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলতে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে লোহার গ্রিল বসানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অংশের ৪৬৩ মিটারে কাজ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই কোনো বিকল্প কাঠামো করা যেত, যাতে সৌন্দর্য অটুট থাকত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, গ্রিল বসানোর পর দর্শনার্থীরা আগের মতো সময় কাটাচ্ছেন না। এতে চা-নাস্তার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে হতো আকাশের নিচে নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হয় যেন কারাগারের ভেতর থেকে ছবি তুলছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন বলেন, “এটা শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনি সৌন্দর্যেরও মর্যাদা আছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “তরুণদের কেউ কেউ ছবি তুলতে গিয়ে মাঝ বরাবর চলে যান, এতে ঝুঁকি থাকে।” তবে তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন সাউথ বাংলাকে বলেন, “শুধু নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে সেতুর অবশিষ্ট অংশে কবে নাগাদ গ্রিল বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

প্রিন্ট করুন :