সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র যেন মৃত্যুপথযাত্রী। ৫০ শয্যার এ সরকারি হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে যন্ত্র টানা ১৬ বছর ধরে বিকল। ফলে রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন বাইরে গিয়ে ৪০০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে—যা সরকারি হাসপাতালে হতে পারত মাত্র ১০ টাকায়!
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি বিশেষ টিম হাসপাতালটিতে হানা দিয়ে চিহ্নিত করল একের পর এক অনিয়ম—অচল যন্ত্রপাতি, রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতা, ওষুধে দুর্নীতি, রোগীর খাবারে কারচুপি, নার্সদের দুর্ব্যবহার।
এক্স-রে যন্ত্রের দুঃখগাথা
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে নতুন যন্ত্র বসানো হলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সেটিও অকেজো হয়ে যায়। দক্ষ রেডিওলজিস্ট ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আর চালু হয়নি যন্ত্রটি। ফলে রোগীদের এক্স-রে করাতে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
ওষুধ-খাবারে কারচুপি
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—
মজুদ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সরকার প্রদত্ত ওষুধ না দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বাধ্য করা
নির্ধারিত খাবারের পাঁচভাগের একভাগ সরবরাহ, তাও নিম্নমানের
রোগীদের সঙ্গে নার্সদের অসহনীয় দুর্ব্যবহার।
দুদকের সুপারিশ ও পদক্ষেপ
সহকারী পরিচালক আজমীর শরীফের নেতৃত্বে দুদক টিম হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, খাবার সরবরাহ ও ফার্মেসির অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার, ফার্মাসিস্ট ও নার্স ইনচার্জকে শোকজ করা হয় এবং দ্রুত লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এক্স-রে ইউনিট দ্রুত চালু করার সুপারিশ করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















