সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)||
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীর তীরে বিস্তৃত সবুজের সমারোহ—সাগুনী শালবন। পীরগঞ্জ বনবিটের আওতায় বাঁশগাড়া ও সাগুনী মৌজার প্রায় ১৪৯ একর জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি শালগাছ। টাঙ্গন নদীর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে তাকালেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়—শালগাছের গাঢ় সবুজে ভরা অপরূপ লীলাভূমি।
বনের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক উঁচু ‘উইয়ের ঢিবি’। এঁটেল-দোআঁশ মাটির বুক চিরে উইপোকাদের রাজপ্রাসাদ। শীতে অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত থাকে গোটা বাগান, নদীর জলে অসংখ্য পাখির জলকেলি—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য যেন এক অপূর্ব মুগ্ধতার রাজ্য। পীরগঞ্জ থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এই শালবনের অবস্থান।
কিন্তু প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের বুকেই লেগেছে নদীভাঙনের বিষদাঁত। টাঙ্গন নদীর স্রোত বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে শালবনের বুক। ইতিমধ্যেই হারিয়েছে তার অনেকটা অংশ। আশঙ্কা—এভাবেই হয়তো একদিন মিলিয়ে যাবে সব।
তবে আশার আলোও দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন—
> “চলতি অর্থবছরেই সাগুনী শালবনের ধারে টাঙ্গন নদীতে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরেই কাজ শুরু হবে।”
যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়, তবে অবশেষে নদীর ভাঙন ঠেকিয়ে টিকে যাবে সাগুনী শালবন। আর সংরক্ষিত থাকবে পীরগঞ্জের এই অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















