নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা||
চরফ্যাশনে এক তরুণীর অনশন ঘিরে তোলপাড় স্থানীয় সমাজ। ‘বিয়ে না হলে মরব’—এই ঘোষণা দিয়ে চার দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন সদ্য এসএসসি দেওয়া তাহছিন ইসলাম। অপর প্রান্তে প্রেমিকের পরিবার বলছে, ‘এটা নিছক ষড়যন্ত্র, আমাদের ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
ঘটনাটি চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের চর আফজাল গ্রামের চান মিয়া হাওলাদার বাড়িতে।
তাহছিনের দাবি, তিনি ভোলা শহরের মৃত আব্দুল হামিদ ও ইয়ানুর বেগমের মেয়ে, আর ভোলা জেলা শাখার ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সহ-সমন্বয়ক। প্রেমিক হিসেবে অভিযুক্ত এনামুল হাসান তন্ময়, যিনি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
গত বুধবার বিকেলে বিয়ের দাবিতে তন্ময়ের বাড়িতে অনশন শুরু করেন তাহছিন। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি জানান, “তন্ময় আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন সে পিছু হটছে। বিয়ে না করলে এই বাড়ি থেকে আমার লাশই যাবে।”
এদিকে, প্রেমিক তন্ময়ের পরিবার শনিবার স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। লিখিত বক্তব্যে মা জোছনা বেগম বলেন, “ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না। মেয়েটির একাধিক ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি আমাদের কাছে আছে। এরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছেলেকে ফাঁসাতে চায়।”
তন্ময়ের বাবা গিয়াস হাওলাদার অভিযোগ করেন, “আমরা চার দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে আছি। কিন্তু মেয়েটি পাশের ঘরে থেকেই আমাদের সংসার ধ্বংস করছে। ওর অতীত দেখে কখনো তাকে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারি না।”
তাহছিনের পাল্টা অভিযোগ, তন্ময়ের পরিবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চেয়েছে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এ নিয়ে চরফ্যাশন থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ তরুণী নিজেকে একটি ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















