ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পবিপ্রবিতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ‘লোকচুরি’ অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুমকী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নির্মাণাধীন শিক্ষক আবাসিক ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক নির্মাণ শ্রমিকের। নিহত শ্রমিকের নাম তানজীর (২০)। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রহস্য আর লোকচুরির অভিযোগ। প্রশ্নের মুখে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের ভূমিকা।

জানা গিয়েছে, শনিবার (২০ জুলাই) ভোর ছ’টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে অবস্থিত নির্মাণাধীন ভবনের সপ্তম তলায় ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় উপর থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন শ্রমিক তানজীর। সহকর্মীরা প্রথমে তাঁকে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বিকেল তিনটায় সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

তানজীর ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মো. মহসিনের ছেলে।

তবে চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউই মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করছেন না। বরং তাঁরা জানান, তানজীর নাকি মাত্র দুই তলা থেকে পড়ে গিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মী ও প্রতিবেশী আলী আজগর শুরুতে কিছু বলতে রাজি হননি। পরে জানান, তানজীরকে বরিশাল ভর্তি করে তিনি অন্য সাইটে চলে যান। মৃত্যুর বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই দাবি তাঁর।

তানজীরের পরিবারের যোগাযোগ নম্বর চাইলে কেউ তা দিতে রাজি হননি। শ্রমিক সরদার মো. মনির কিংবা সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাবুদ্দিন, কেউই মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। বরং ইঞ্জিনিয়ার শাহাবুদ্দিন একবার স্বীকার করলেও পরে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “থানায় খোঁজ নেন,” বলেই ফোন কেটে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস শরীফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বরিশাল থানা থেকে জানতে চাওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।”

নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি একটি প্রাণহানির ঘটনার পর এভাবে সত্য গোপনের চেষ্টাকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পবিপ্রবিতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ‘লোকচুরি’ অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

Update Time : ০৭:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুমকী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নির্মাণাধীন শিক্ষক আবাসিক ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক নির্মাণ শ্রমিকের। নিহত শ্রমিকের নাম তানজীর (২০)। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রহস্য আর লোকচুরির অভিযোগ। প্রশ্নের মুখে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের ভূমিকা।

জানা গিয়েছে, শনিবার (২০ জুলাই) ভোর ছ’টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে অবস্থিত নির্মাণাধীন ভবনের সপ্তম তলায় ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় উপর থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন শ্রমিক তানজীর। সহকর্মীরা প্রথমে তাঁকে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বিকেল তিনটায় সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

তানজীর ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মো. মহসিনের ছেলে।

তবে চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউই মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করছেন না। বরং তাঁরা জানান, তানজীর নাকি মাত্র দুই তলা থেকে পড়ে গিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মী ও প্রতিবেশী আলী আজগর শুরুতে কিছু বলতে রাজি হননি। পরে জানান, তানজীরকে বরিশাল ভর্তি করে তিনি অন্য সাইটে চলে যান। মৃত্যুর বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই দাবি তাঁর।

তানজীরের পরিবারের যোগাযোগ নম্বর চাইলে কেউ তা দিতে রাজি হননি। শ্রমিক সরদার মো. মনির কিংবা সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাবুদ্দিন, কেউই মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। বরং ইঞ্জিনিয়ার শাহাবুদ্দিন একবার স্বীকার করলেও পরে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “থানায় খোঁজ নেন,” বলেই ফোন কেটে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস শরীফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বরিশাল থানা থেকে জানতে চাওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।”

নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি একটি প্রাণহানির ঘটনার পর এভাবে সত্য গোপনের চেষ্টাকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রিন্ট করুন :