মোঃ মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি ||
ভোলার চরফ্যাশনে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। অভিযোগ, এক অসহায় পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, হামলা এবং অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগের পাহাড় জমালেন।
ভুক্তভোগী হাছান বানু অভিযোগ করেন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আল-আমিন বিএসসি, আমির হোসেন, হাসান, নাজমা এবং আলেদা বেগম মিলে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টির মূল উৎস একটি ৩২ শতক জমি।
হাছান বানুর ভাষায়, “আমার শ্বশুর নজীর আহমদ বকশী প্রায় বারো বছর আগে দেড় লাখ টাকায় আমাকে ওই জমি বিক্রি করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তিনি কোনো দলিলপত্র দেননি। আমি বাবার বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে ওই টাকা দিই। এরপর থেকে আমার পরিবার সেই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে।”
তাঁর দাবি, গত ১২ জুলাই, শনিবার, ছেলে আমিরুল ইসলাম জমিতে ধানের চারায় সেচ দিতে গেলে নজীর আহমদ ও আল-আমিনের নেতৃত্বে অন্তত দশজন অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে স্বামী ইয়াছিন বকশী, ছেলে আমিরুল, মেয়ে বিবি কুলছুম ও আত্মীয়া সুফিয়া আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করেন।
এদিকে, হাছান বানুর ছেলে আমিরুল বলেন, “শুধু হামলা নয়, প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য সাংবাদিকদের দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়ে আমাদের সমাজে হেয় করছে। উল্টো থানায় আমাদের নামে অভিযোগ দিয়েছে। জমির চারাগুলোও নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিচার চাইছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক আল-আমিন বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। শুনেছি, আমিরুল এবং ইয়াছিন বকশী আমার দাদাকে মারধর করেছে।”
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র এবং সালিশদারদের মতে, হাছান বানু ও তার পরিবারই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। নজীর আহমদ জমি বিক্রির টাকা নিয়েও দলিল না দেওয়ায় একাধিকবার সালিশ হয়। সিদ্ধান্ত ছিল জমি বুঝিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তিনি তা মানেননি।
এই বিষয়ে চরফ্যাশন থানার ওসি মিজান হাওলাদার বলেন, “উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















