ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ভোলায় প্রেমের ফাঁদে পাঁচ বছরের শারীরিক সম্পর্ক! ধর্ষণের অভিযোগ কিশোরীর, থানার ওসি বলছেন ‘প্রমাণ আনো’

নিজস্ব প্রতিবেদন | ভোলা |

মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম বিচার চাইতে। কিন্তু বিচার তো দূরের কথা, রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রেখে শেষে বলে, ‘প্রমাণ নিয়ে আসেন।’ আমি গরিব মানুষ, এর চেয়ে অপমান আর কী হতে পারে?”
কান্নাভেজা গলায় কথাগুলো বলছিলেন এক কিশোরীর মা — তাঁর অভিযোগ, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ককে পুঁজি করে মেয়েকে বহুবার ধর্ষণ করেছে মেহেদী নামের এক তরুণ, আর পুলিশের ভূমিকা? কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ।

ঘটনাস্থল ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট। সেখানকার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী অভিযোগ করেছে, মামাতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাঁচ বছর ধরে। সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই মেহেদী একাধিকবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঢাকায় থাকা অবস্থায়ও মেয়েটির সঙ্গে ‘দাম্পত্য সম্পর্ক’ বজায় রাখেন বলে অভিযোগ।

সবশেষে, গত ৯ জুন প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে যখন মেয়েটি মেহেদীর বাড়িতে যায়, তখন ঘটে আরও ভয়াবহ ঘটনা। কিশোরীর অভিযোগ, মেহেদীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে আহত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। কিন্তু থানায় গিয়েও ন্যায্য সহায়তা মেলেনি বলে দাবি ভিক্টিম ও তার পরিবারের।

“ধর্ষণের কথা থানায় জানিয়েছি। কিন্তু উল্টো ওসি সাহেব বলেন প্রমাণ কই? আমি বিচার পাবো না বুঝতে পেরে চোখের জল ফেলেই ফিরেছি,” বলেন মেয়েটি।

ভিক্টিমের মায়ের ভাষ্য, “মেহেদীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে মেয়ের অন্য কোথাও বিয়ে দিতেও পারিনি। সে এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে, উল্টো মেরে ফেলতে উদ্যত হয়েছে।”

অভিযোগের তীর দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখারের দিকে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে ‘আতাঁত’ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন।

ওসি আরিফ বলেন, “উভয় পক্ষই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারকে সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেয়েটি ধর্ষণের কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেনি। সে শুধু শারীরিক সম্পর্কের কথা বলেছে। তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে বলেছি।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে কি ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বহীন হয়ে যায়? ভিক্টিমের বক্তব্যে স্পষ্ট—এই সম্পর্ক ইচ্ছাকৃত ছিল না, বরং বিশ্বাস ও প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সে বহুবার শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত মেহেদীর বাবা আলাউদ্দিন মাষ্টার অবশ্য দাবি করেন, “ওসি সাহেব মিমাংসা করে দিয়েছেন। প্রমাণ ছাড়া কিছু করার নেই।”

তবে সমাজ প্রশ্ন তোলে —
প্রেমের নামে পাঁচ বছরের শোষণ, বিয়ের আশ্বাসে লুণ্ঠিত শারীরিক স্বাধীনতা — এ কি ধর্ষণ নয়?
আর প্রমাণের নামে যদি ভিক্টিমের আত্মসম্মান চূর্ণ হয় — তবে আইনের দ্বার কবে, কার জন্য খুলবে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

ভোলায় প্রেমের ফাঁদে পাঁচ বছরের শারীরিক সম্পর্ক! ধর্ষণের অভিযোগ কিশোরীর, থানার ওসি বলছেন ‘প্রমাণ আনো’

Update Time : ০৯:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদন | ভোলা |

মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম বিচার চাইতে। কিন্তু বিচার তো দূরের কথা, রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রেখে শেষে বলে, ‘প্রমাণ নিয়ে আসেন।’ আমি গরিব মানুষ, এর চেয়ে অপমান আর কী হতে পারে?”
কান্নাভেজা গলায় কথাগুলো বলছিলেন এক কিশোরীর মা — তাঁর অভিযোগ, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ককে পুঁজি করে মেয়েকে বহুবার ধর্ষণ করেছে মেহেদী নামের এক তরুণ, আর পুলিশের ভূমিকা? কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ।

ঘটনাস্থল ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট। সেখানকার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী অভিযোগ করেছে, মামাতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাঁচ বছর ধরে। সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই মেহেদী একাধিকবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঢাকায় থাকা অবস্থায়ও মেয়েটির সঙ্গে ‘দাম্পত্য সম্পর্ক’ বজায় রাখেন বলে অভিযোগ।

সবশেষে, গত ৯ জুন প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে যখন মেয়েটি মেহেদীর বাড়িতে যায়, তখন ঘটে আরও ভয়াবহ ঘটনা। কিশোরীর অভিযোগ, মেহেদীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে আহত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। কিন্তু থানায় গিয়েও ন্যায্য সহায়তা মেলেনি বলে দাবি ভিক্টিম ও তার পরিবারের।

“ধর্ষণের কথা থানায় জানিয়েছি। কিন্তু উল্টো ওসি সাহেব বলেন প্রমাণ কই? আমি বিচার পাবো না বুঝতে পেরে চোখের জল ফেলেই ফিরেছি,” বলেন মেয়েটি।

ভিক্টিমের মায়ের ভাষ্য, “মেহেদীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে মেয়ের অন্য কোথাও বিয়ে দিতেও পারিনি। সে এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে, উল্টো মেরে ফেলতে উদ্যত হয়েছে।”

অভিযোগের তীর দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখারের দিকে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে ‘আতাঁত’ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন।

ওসি আরিফ বলেন, “উভয় পক্ষই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারকে সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেয়েটি ধর্ষণের কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেনি। সে শুধু শারীরিক সম্পর্কের কথা বলেছে। তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে বলেছি।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে কি ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বহীন হয়ে যায়? ভিক্টিমের বক্তব্যে স্পষ্ট—এই সম্পর্ক ইচ্ছাকৃত ছিল না, বরং বিশ্বাস ও প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সে বহুবার শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত মেহেদীর বাবা আলাউদ্দিন মাষ্টার অবশ্য দাবি করেন, “ওসি সাহেব মিমাংসা করে দিয়েছেন। প্রমাণ ছাড়া কিছু করার নেই।”

তবে সমাজ প্রশ্ন তোলে —
প্রেমের নামে পাঁচ বছরের শোষণ, বিয়ের আশ্বাসে লুণ্ঠিত শারীরিক স্বাধীনতা — এ কি ধর্ষণ নয়?
আর প্রমাণের নামে যদি ভিক্টিমের আত্মসম্মান চূর্ণ হয় — তবে আইনের দ্বার কবে, কার জন্য খুলবে?

প্রিন্ট করুন :