মির্জাগঞ্জে চালের কার্ডে ঘুষের ছ্যাঁকা! সচিব অবরুদ্ধ, উদ্ধার করল প্রশাসন
নাইম ইসলাম | মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
চাল বিতরণের কার্ড পেতে গরিব নারীদের থেকে ৫০০ টাকা করে ঘুষ! টাকা না দিলে চাল নয়—এই হুমকিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ। অবশেষে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউপি সচিবকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। উদ্ধার করলেন ইউএনও সেনা-পুলিশ নিয়ে!
ঘটনা ঘটেছে মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘ভিজিডি’র চাল নিতে এসেছিলেন ৩২৬ জন দরিদ্র নারী উপকারভোগী। চাল দেওয়া হচ্ছিল ৫ মাসের বরাদ্দ। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে তুলে নিয়েছেন ইউনিয়ন সচিব হুমায়ুন কবির—এমনই অভিযোগ। হিসেব কষে দেখা যাচ্ছে, তোলা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত এক উপকারভোগী, জেসমিন বেগমের কাছ থেকে টাকা নিয়েও তাকে চাল না দেওয়া ঘিরে। ‘কার্ড হারিয়ে গেছে’—এই অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেন সচিব। এরপরই উত্তাল জনতা ঘিরে ধরে মাদবখালী ইউপি কার্যালয়, অবরুদ্ধ করে সচিবকে।
চোখে পড়ার মতো তথ্য দিয়েছেন ইউনিয়নের দফাদার শফিকুল ইসলাম সোহাগ। তাঁর সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি—“সচিব হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে আমরা চৌকিদার-দফাদার মিলে টাকা তুলেছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫০০ টাকা করে নিয়েছি।”
অন্যদিকে সচিব হুমায়ুন কবির নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, “সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি একা কিছু করিনি। টাকা তুলতেও যাইনি।”
প্রশাসকের দাবি, তিনি কিছু জানতেন না! সমাজসেবা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “যারা টাকা দিয়েছেন, ফেরত পাবেন।”
তবে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আমি সেনা-পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মঙ্গলবারের মধ্যে টাকা ফেরতের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 





















