ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি||
অদম্য চেষ্টা, সীমাহীন সংকট আর আত্মবিশ্বাস—সব মিলে এক তরুণের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার আনন্দবাজার গ্রামের এই দরিদ্র ঘরের সন্তান এবার একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু বাঁধ সাধছে একটাই—অর্থাভাব।
পড়তে চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। স্বপ্ন একটাই—বিচারক হওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে এখন শুধুই আর্থিক সংকট। হতদরিদ্র দিনমজুর পিতা খোরশেদ আলম আর মা মুছুদা খাতুন এখন কেবল তাকিয়ে আছেন—কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
মোস্তাফিজ জানালেন, “শৈশব থেকেই কষ্ট করে পড়েছি। কখনো কোচিং করতে পারিনি। শুধু শেষ দিকে একবার ৩ হাজার টাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রংপুরে একটি মক টেস্ট দিয়েছি। তাও বাড়ির শেষ সম্বল, একটি গরু বিক্রি করে।” সেই পরীক্ষার ফলও মুগ্ধ করার মতো—
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯তম,
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩০তম,
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৮তম,
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯৫তম,
- হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম।
তবে মোস্তাফিজের লক্ষ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। তার কথা, “সেখানে পড়েই বিচারক হতে চাই। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাইমিনুল ইসলাম ও সোহেল রানা ছিলেন তার চলার পথে বড় ভরসা। শিক্ষকরা জানান, “এই ছেলে শুধু কলেজ নয়, পুরো এলাকা ও সমাজের গর্ব। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
তবে বাস্তবতা বড় নির্মম। মোস্তাফিজের বাবার ভাষায়, “গ্রামের লোকজন বলে, ছেলে নাকি বড় জায়গায় চান্স পেয়েছে। কিন্তু বড় জায়গায় পড়ার মতো টাকাপয়সা আমাদের কই?”
এখন মোস্তাফিজ ও তার পরিবার তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান, শিক্ষা অনুরাগী এবং সরকারের দিকেই। একটু সহানুভূতি আর সাহায্য পেলে হয়তো বদলে যাবে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।
দানশীল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিবিশেষের কাছে। সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ, মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল নং-০১৩৩-৩৮৯৭৩৭৭।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 























