ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অদম্য মেধাবী মোস্তাফিজ পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায়, অর্থাভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি||

অদম্য চেষ্টা, সীমাহীন সংকট আর আত্মবিশ্বাস—সব মিলে এক তরুণের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার আনন্দবাজার গ্রামের এই দরিদ্র ঘরের সন্তান এবার একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু বাঁধ সাধছে একটাই—অর্থাভাব

পড়তে চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। স্বপ্ন একটাই—বিচারক হওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে এখন শুধুই আর্থিক সংকট। হতদরিদ্র দিনমজুর পিতা খোরশেদ আলম আর মা মুছুদা খাতুন এখন কেবল তাকিয়ে আছেন—কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

মোস্তাফিজ জানালেন, “শৈশব থেকেই কষ্ট করে পড়েছি। কখনো কোচিং করতে পারিনি। শুধু শেষ দিকে একবার ৩ হাজার টাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রংপুরে একটি মক টেস্ট দিয়েছি। তাও বাড়ির শেষ সম্বল, একটি গরু বিক্রি করে।” সেই পরীক্ষার ফলও মুগ্ধ করার মতো—

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯তম,
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩০তম,
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৮তম,
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯৫তম,
  • হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম

তবে মোস্তাফিজের লক্ষ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। তার কথা, “সেখানে পড়েই বিচারক হতে চাই। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাইমিনুল ইসলামসোহেল রানা ছিলেন তার চলার পথে বড় ভরসা। শিক্ষকরা জানান, “এই ছেলে শুধু কলেজ নয়, পুরো এলাকা ও সমাজের গর্ব। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”

তবে বাস্তবতা বড় নির্মম। মোস্তাফিজের বাবার ভাষায়, “গ্রামের লোকজন বলে, ছেলে নাকি বড় জায়গায় চান্স পেয়েছে। কিন্তু বড় জায়গায় পড়ার মতো টাকাপয়সা আমাদের কই?”

এখন মোস্তাফিজ ও তার পরিবার তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান, শিক্ষা অনুরাগী এবং সরকারের দিকেই। একটু সহানুভূতি আর সাহায্য পেলে হয়তো বদলে যাবে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।

দানশীল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিবিশেষের কাছে। সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ, মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল নং-০১৩৩-৩৮৯৭৩৭৭।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

অদম্য মেধাবী মোস্তাফিজ পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায়, অর্থাভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

Update Time : ০৪:২২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি||

অদম্য চেষ্টা, সীমাহীন সংকট আর আত্মবিশ্বাস—সব মিলে এক তরুণের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার আনন্দবাজার গ্রামের এই দরিদ্র ঘরের সন্তান এবার একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু বাঁধ সাধছে একটাই—অর্থাভাব

পড়তে চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। স্বপ্ন একটাই—বিচারক হওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে এখন শুধুই আর্থিক সংকট। হতদরিদ্র দিনমজুর পিতা খোরশেদ আলম আর মা মুছুদা খাতুন এখন কেবল তাকিয়ে আছেন—কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

মোস্তাফিজ জানালেন, “শৈশব থেকেই কষ্ট করে পড়েছি। কখনো কোচিং করতে পারিনি। শুধু শেষ দিকে একবার ৩ হাজার টাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রংপুরে একটি মক টেস্ট দিয়েছি। তাও বাড়ির শেষ সম্বল, একটি গরু বিক্রি করে।” সেই পরীক্ষার ফলও মুগ্ধ করার মতো—

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯তম,
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩০তম,
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৮তম,
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯৫তম,
  • হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম

তবে মোস্তাফিজের লক্ষ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। তার কথা, “সেখানে পড়েই বিচারক হতে চাই। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাইমিনুল ইসলামসোহেল রানা ছিলেন তার চলার পথে বড় ভরসা। শিক্ষকরা জানান, “এই ছেলে শুধু কলেজ নয়, পুরো এলাকা ও সমাজের গর্ব। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”

তবে বাস্তবতা বড় নির্মম। মোস্তাফিজের বাবার ভাষায়, “গ্রামের লোকজন বলে, ছেলে নাকি বড় জায়গায় চান্স পেয়েছে। কিন্তু বড় জায়গায় পড়ার মতো টাকাপয়সা আমাদের কই?”

এখন মোস্তাফিজ ও তার পরিবার তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান, শিক্ষা অনুরাগী এবং সরকারের দিকেই। একটু সহানুভূতি আর সাহায্য পেলে হয়তো বদলে যাবে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।

দানশীল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিবিশেষের কাছে। সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ, মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল নং-০১৩৩-৩৮৯৭৩৭৭।

প্রিন্ট করুন :