ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যাঃ হিটু শেখের ফাঁসি—বিচার ব্যবস্থার বড় জয় বললেন শিশির মনির

মাত্র ২১ দিন। দেশের বিচার ইতিহাসে সম্ভবত নজিরবিহীন। শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত। শনিবার (১৭ মে) সকালে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ঘোষণা করলেন এই রায়।

ফেসবুক লাইভে বিচার বিভাগের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই দ্রুত বিচার আমাদের আইনি ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রমাণ।”

মামলার অন্যান্য তিন আসামি—সজীব শেখ, রাতুল শেখ এবং রোকেয়া বেগম—যারা ছিলেন শিশু আছিয়ার আত্মীয় পরিজন, তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

সকাল সাড়ে ৮টা। চার আসামিকে কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। বিচার শুরু হয়েছিল মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। অথচ প্রমাণ, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক কার্যক্রমে গতি এনে দিয়েছেন নতুন উদাহরণ।

গত ৬ মার্চ। মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে নরপিশাচ হিটু শেখের লালসার শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে ভর্তি হয় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল, শেষে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। মৃত্যু তাকে ছাড়েনি। ১৩ মার্চ মৃত্যু ঘটে নিষ্পাপ শিশুটির।

সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। মাগুরা থেকে রাজধানী, গ্রাম থেকে শহর—আছিয়ার জন্য মানুষ বুকে প্রতিবাদের আগুন জ্বালায়। সোচ্চার হয় সমাজ, সোচ্চার হয় মিডিয়া।

আজকের এই রায় শুধু একটি মামলার সমাপ্তি নয়, এটি এক প্রকার বার্তা—এই দেশে ধর্ষণ করে পার পাওয়া যাবে না। বিচার হবে, দ্রুত হবে, দৃষ্টান্তমূলক হবে।

বিচারক এম জাহিদ হাসান তাঁর রায়ে বলেছেন, “এই রায় সমাজে সুরক্ষা, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের বার্তা দেবে।”
একটি শিশুর কান্না, একটি সমাজের ঘুম ভাঙানো প্রতিবাদ, আর এক আদালতের সাহসী রায়—সব মিলিয়ে এ যেন বিচার ব্যবস্থার পক্ষ থেকে মানুষকে দেওয়া এক আশার আলো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যাঃ হিটু শেখের ফাঁসি—বিচার ব্যবস্থার বড় জয় বললেন শিশির মনির

Update Time : ০১:৩৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

মাত্র ২১ দিন। দেশের বিচার ইতিহাসে সম্ভবত নজিরবিহীন। শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত। শনিবার (১৭ মে) সকালে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ঘোষণা করলেন এই রায়।

ফেসবুক লাইভে বিচার বিভাগের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই দ্রুত বিচার আমাদের আইনি ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রমাণ।”

মামলার অন্যান্য তিন আসামি—সজীব শেখ, রাতুল শেখ এবং রোকেয়া বেগম—যারা ছিলেন শিশু আছিয়ার আত্মীয় পরিজন, তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

সকাল সাড়ে ৮টা। চার আসামিকে কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। বিচার শুরু হয়েছিল মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। অথচ প্রমাণ, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক কার্যক্রমে গতি এনে দিয়েছেন নতুন উদাহরণ।

গত ৬ মার্চ। মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে নরপিশাচ হিটু শেখের লালসার শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে ভর্তি হয় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল, শেষে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। মৃত্যু তাকে ছাড়েনি। ১৩ মার্চ মৃত্যু ঘটে নিষ্পাপ শিশুটির।

সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। মাগুরা থেকে রাজধানী, গ্রাম থেকে শহর—আছিয়ার জন্য মানুষ বুকে প্রতিবাদের আগুন জ্বালায়। সোচ্চার হয় সমাজ, সোচ্চার হয় মিডিয়া।

আজকের এই রায় শুধু একটি মামলার সমাপ্তি নয়, এটি এক প্রকার বার্তা—এই দেশে ধর্ষণ করে পার পাওয়া যাবে না। বিচার হবে, দ্রুত হবে, দৃষ্টান্তমূলক হবে।

বিচারক এম জাহিদ হাসান তাঁর রায়ে বলেছেন, “এই রায় সমাজে সুরক্ষা, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের বার্তা দেবে।”
একটি শিশুর কান্না, একটি সমাজের ঘুম ভাঙানো প্রতিবাদ, আর এক আদালতের সাহসী রায়—সব মিলিয়ে এ যেন বিচার ব্যবস্থার পক্ষ থেকে মানুষকে দেওয়া এক আশার আলো।

প্রিন্ট করুন :