বিএনপির দ্বন্দ্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা: গাছে ঝুলছে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পবা উপজেলার বাগধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এর জেরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা, তাকে মারধর এবং তার ব্যবহৃত চেয়ার বিদ্যালয়ের সামনের একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত ও অশোভন ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে বিএনপির দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কমিটির এক সভা আহ্বান করা হয়। সভা শুরুর আগেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, গালাগালি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মঞ্জু মনোয়ারাকে তার কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার চেয়ারটি প্রথমে ডোবায় ফেলা হয়, পরে তা গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক মঞ্জু মনোয়ারা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, “এটি বিএনপির দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বিদ্যালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এর ফলে অফিস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। উপবৃত্তি কার্যক্রম, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ফাইল আটকে আছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তাকে মারধর করা হয়েছে। পরবর্তীতে পবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে নওহাটা পৌর এলাকার আতাউর, বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মকসেদ আলী, সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রভাব শিক্ষার্থীদের মাঝে স্পষ্ট। প্রতিটি শ্রেণিতে যেখানে সাধারণত ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী থাকত, সেখানে এখন মাত্র ১০-১২ জন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পুরোনো সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান। তিনি আত্মগোপনে যাওয়ার পর ৩ মার্চ নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন বিএনপি-সমর্থিত মামুন-অর-রশিদ। তবে এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বিএনপির আরেক অংশের প্রভাবশালী নেতা নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি মামুন-অর-রশিদ দাবি করেছেন, “ঘটনার সময় আমরা সভাস্থলে পৌঁছার আগেই তালা লাগানো হয়েছিল।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমি শুধু দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা কোনো তালা লাগাইনি বা ভাঙচুর করিনি। প্রধান শিক্ষককে কেউ শিখিয়ে বলাচ্ছে।”
পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশের প্রতীক, সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের এমন প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 























